তরুণরাই মেলার প্রাণ

 
তরুণ পাঠকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছিল গতকাল শনিবার বইমেলা। এবার মেলা শুরু থেকেই জমে উঠেছে। মেলার শুরুতেই দু’দিনের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় মেলা জমে ওঠা নিয়ে আক্ষেপ নেই প্রকাশকদের মাঝে। তবে মেলার এই সময়টা জমিয়ে রাখছেন তরুণরাই। দল বেঁধে মেলা প্রাঙ্গণে এসে আড্ডা দিয়ে ঘুরে ফিরে হুল্লোড়ে মেতে উঠে জমিয়ে তুলেছেন বইমেলা। গতকাল শনিবার ছুটির দিনে বিকালে বইমেলা কানায় কানায় ভরে উঠেছিল। পরিণত হয়েছিল লেখক-পাঠক-প্রকাশকের মিলনমেলায়।
 
গতকালও ছিল শিশুপ্রহর। শিশুদের আনাগোনা ছিল শিশু কর্নারে। সকালের দিকে তুলনামূলক দর্শনার্থী কম হলেও বিকালে মেলা জমে উঠেছিল পুরোদমে। দলে দলে মেলায় এসে স্টলগুলোতে ভিড় জমিয়েছিলেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। মেলায় ঘুরে-ফিরে, আড্ডা দিয়ে মেলাকে সরগরম করে তুলেছিলেন তারা। সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত গড়াবার সাথে সাথে বেড়েছে সেই ঢলের মাত্রা।
 
ব্যবসার কাজে ঢাকায় এসেছিলেন বরিশালের তোফাজ্জল হোসেন। কাজ সেরে এসেছিলেন মেলায়। আর মেলার টানে বরিশাল থেকে তার সঙ্গে এসেছেন স্ত্রী শারমিন হোসেন। বললেন, ঢাকায় আসছিল আমিও সঙ্গে চলে এলাম। বইমেলার টানেই এসেছি। আমি লেখাপড়া করেছি ইডেন কলেজে। পড়ার সময়  কত্তো এসেছি মেলায়। এখন তো প্রতি বছর আসা হয় না। কিন্তু সুযোগ পেলে ছাড়ি না। ভাষার মাসে আর বইমেলায় যদি আসতে না পারি তবে তো পুরো বছরটাই মাটি— আবেগজড়িত কণ্ঠে বললেন তিনি। বইমেলা নিয়ে   সারাদেশের মানুষের মাঝে এমন আবেগই কাজ করে। মেলায় আসা এবং বই কেনার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন সবাই।
 
সাহিত্য সম্মেলনে সারাবেলা
 
আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের শেষদিনে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুবাদ সাহিত্য বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট অনুবাদক অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আবদুস সেলিম। সভাপতিত্ব করেন কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। এদিকে, গ্রন্থমেলা মূলমঞ্চে শিশু-কিশোর সাহিত্য বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিশুসাহিত্যিক রাশেদ রউফ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আলী ইমাম, রফিকুর রশীদ এবং লুত্ফর রহমান রিটন। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক হায়াত্ মামুদ। বিকালে মূলমঞ্চে বাংলা নাট্যসাহিত্য বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাট্যজন সাজেদুল আউয়াল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাট্যজন চন্দন সেন এবং সুদীপ চক্রবর্তী। সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ। আর সন্ধ্যায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে বাংলা ভাষার স্বরচিত কবিতা পাঠ। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের কবিবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত সুইডিশ কবি ক্রিস্টিয়ান কার্লসন। সভাপতিত্ব করেন কবি মুহাম্মদ সামাদ।
 
নতুন বই
 
অমর একুশে গ্রন্থমেলার তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল মেলার চতুর্থদিনে নতুন ১৩৯টি বই এসেছে। এর মধ্যে গল্প ২৯, উপন্যাস ১৮, প্রবন্ধ ৭, কবিতা ২৮, গবেষণা ২, ছড়া ৩, শিশুসাহিত্য ৪, জীবনী ১, রচনাবলি-২, মুক্তিযুদ্ধ ৬, নাটক ২, বিজ্ঞান ১, ভ্রমণ ৬, ইতিহাস ১, রাজনীতি ২, চিকিত্সা/স্বাস্থ্য ১, কম্পিউটার ১, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ২ এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর বই এসেছে আরো ২৩টি বই। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— অনিন্দ্য প্রকাশ এনেছে মোহিত কামালের ‘দুখু দ্বিতীয় খণ্ড’, উত্স এনেছে মঈনুস সুলতানের ‘পরবাসের রঙিন মানুষ’, দি রয়েল পাবলিশার্স এনেছে সৈয়দ ইকবালের ‘দ্বিতীয় পুরুষ’,  অন্বেষা এনেছে পলাশ মাহবুবের ‘টোটো কোম্পানি ও বীর প্রতীকের মডেল’, অনুপম প্রকাশনী এনেছে হুুমায়ূন আহমেদের ‘সুরা আছেন’, অন্যপ্রকাশ এনেছে আনিসুল হকের ‘সেরা দশ গল্প’, হুমায়ূন আহমেদের ‘মিসির আলী দশ’, অনন্যা এনেছে মনজুল মাওলার ‘শিখিয়েছিলাম’, পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স এনেছে শাহিরয়ারের ‘বাবু দশ’, বাংলাপ্রকাশ এনেছে হুমায়ূন কবির ঢালির ‘হাতির ওজন কত’, সময় এনেছে ফরিদ আহমেদের ‘প্রকাশক নামা ও হুমায়ূন আহমেদ’, তৃণলতা প্রকাশ এনেছে মুহম্মদ ইব্রাহিমের ‘সমির সাহেবের টাকমাথা’, নির্ণায়ক প্রকাশনী এনেছে অসিম সাহার ‘রাজনৈতিক কবিতা’, শ্রাবণ এনেছে সুদীপ্ত সালামের ‘গুলশান ট্রাজেডি ও আল কায়েদার নেটওয়ার্ক’।
 
আজকের অনুষ্ঠান
 
আজ রবিবার মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘আহসান হাবীব জন্ম শতবর্ষ’ আলোচনা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করবেন কবি তুষার দাশ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ড. অনু হোসেন ও ড. তারেক রেজা। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক জুলফিকার মতিন। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।