মুরগি বনাম ডিম

 

g ইকবাল খন্দকার

 

ডিম আগে না মুরগি আগে—এই প্রশ্ন শুনতে শুনতে আমাদের কান ঝালাপালা। অথচ আজ পর্যন্ত এই প্রশ্নের কোনো সুষ্ঠু উত্তর পাওয়া গেল না। তবে এখন পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে মনে হয় প্রশ্নটার একটা সমাধানমূলক উত্তর মিলল। উত্তরটা এমন, ডিমও আগে না, মুরগিও আগে না। দুটোই সমান সমান। নিশ্চয়ই ভাবছেন কারণটা কী? কারণ হলো, মুরগির দাম কমেনি। বেড়েছে ডিমের দাম। তার মানে দুটোর দামই বেশি। অর্থাত্ দামের দিক দিয়ে দুটোই সমান সমান। এখন প্রশ্ন হলো, দুই জিনিসের দামই এভাবে কেন বাড়ল?

এই প্রশ্নের উত্তরে আমার এক প্রতিবেশী বললেন, ‘আমার ধারণা সাম্প্রতিক ঘোষণার কারণে ডিম এবং মুরগির দাম হু-হু করে বেড়ে গেছে।’

আমি বললাম, ‘কোন ঘোষণার কথা বলছেন একটু বলেন তো!’

প্রতিবেশী বললেন, ‘এই যে ঘোষণা এলো না ক্লাস থ্রি পর্যন্ত নাকি কোনো পরীক্ষা থাকবে না?’

আমি বললাম, ‘খুবই চমত্কার ঘোষণা। প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। এই ঘোষণার কারণে মুরগি বা ডিমের দাম কেন বাড়বে?’

প্রতিবেশী বললেন, ‘পরীক্ষার খাতায় গোল্লা পাওয়ার ভয়ে শিক্ষার্থীরা ডিম খায় না। যেহেতু পরীক্ষা বন্ধ, তার মানে ডিম খাওয়া চালু। সবাই দেদারসে ডিম খাচ্ছে, ডিমের দাম বেড়েই যাচ্ছে, বেড়েই যাচ্ছে।’

আমি বললাম, ‘আপনার যুক্তি ঠিক আছে। কিন্তু মুরগির দাম কেন বাড়বে, এটা ঠিক বুঝলাম না।’

প্রতিবেশী বললেন, ‘এত সহজ একটা ব্যাপার যদি না বোঝেন তাহলে আর কী বুঝবেন বলেন! যেহেতু এখন মুরগিকে বেশি বেশি ডিম দিতে হচ্ছে অতএব মুরগির দাম তো বাড়বেই। বেশি সার্ভিস অতএব পারিশ্রমিকও বেশি।’

 

আমার এক ছোটভাই বলল, ‘আমার এলাকায় অপরাধ বেড়ে গেছে। আসলে ডিমের দাম বাড়লে অপরাধ তো বাড়বেই।’

আমি বললাম, ‘ডিমের দামের সঙ্গে অপরাধ বাড়ার সম্পর্ক কী?’

ছোটভাই বলল, ‘আগে একটা ভয় কাজ করত অপরাধীদের মনে। কোনো অপরাধ করলে পুলিশ ধরে নিয়ে ডিম থেরাপি দেবে। এখন সেই ভয়টা নেই। কারণ, ডিমের দাম বেড়ে গেছে। তার মানে ডিম থেরাপি দেওয়ার আশঙ্কা কম। ফলে অপরাধীরা মোটামুটি স্বাধীনভাবেই অপরাধ করে যাচ্ছে।’

আমি বললাম, ‘ডিমের দাম বাড়লেও বাঁশের দাম কিন্তু বাড়েনি। আর জেনে রাখা ভালো, ডিম থেরাপি অপেক্ষা বাঁশ থেরাপি অধিক উত্তম।’

 

আমার এক বড়ভাই বললেন, ‘মুরগির দাম কেন কমছে না, ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। অথচ আমি মনে করি মুরগির দাম এক লাফে অর্ধেকে নেমে আসা উচিত।’

আমি বললাম, ‘আপনি কেন এমনটা মনে করছেন?’

বড়ভাই বললেন, ‘কেন মনে করব না, তাই বল। আমার পাশের বাসায় একটা মুরগি পোষে। ওই বাসার লোকজন মুরগিটাকে আহ্লাদ দিয়ে দিয়ে একেবারে মাথায় তুলে ফেলেছে। আর এতটাই মাথায় তুলেছে যে, গতকাল আমি যেই তাদের বাসায় গেলাম, উড়াল দিয়ে এসে বসল আমার মাথায়। আমি যেই মুরগিটাকে ধাক্কা দিয়ে মাথা থেকে সরাতে গেলাম, ঘটে গেল বেইজ্জতি কারবার। মুরগির নুখে লেগে আমার মাথার পরচুলাটা খুলে গেল। তো যে মুরগি মানুষের বেইজ্জতির কারণ হয়, সেই মুরগির দাম কেন বাড়বে? কেন কমে অর্ধেক বা তারও নিচে নেমে আসবে না? আরে, দাম দিয়ে দিয়ে মুরগিকে যদি আমরা মাথায় তুলি, তাহলে আজ না হয় আমার পরচুলা খুলেছে, আরেকদিন কি আরেকজনেরটা খুলতে পারে না? পরচুলা কি আমি একা পরি?’