গাইবান্ধায় নিখোঁজ এক যুবকের সন্ধান চেয়ে মায়ের সংবাদ সম্মেলন

গাইবান্ধায় আবারো ৫ দিন ধরে এক যুবক নিখোঁজ। তার সন্ধানে রবিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অসহায় মা মনোয়ারা বেগম। নিখোঁজ মোশারফ হোসেন (৪৫) জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের মোঃ শরিয়ত উল্লার ছেলে।
 
গত ৩১ ডিসেম্বর গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন আততায়ীদের গুলিতে নিহত হন। এর এক সপ্তাহ পর থেকে পার্শ্ববর্তী সাদুল্লাপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবদলের ৪ নেতা নিখোঁজ হয়। এর মধ্যে জেলায় হটাৎ করে নিখোঁজ হওয়ার এই প্রবণতা শুরু হয়।
 
এ পর্যন্ত শুধু সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জে মোট ৮ জন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী নিখোঁজ হন। তারমধ্যে নিখোঁজ সাদুল্লাপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবদলের ৪ নেতা ১০ /১২ দিন পর নাটকীয়ভাবে বাড়ি ফিরে আসেন। বাকি ৩ জনকে ১০-১৫ দিন পর পুলিশ এমপি লিটন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখান। এছাড়া এখনও  নিখোঁজ আছেন মোশারফ হোসেন (৪৫)।
 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মা মনোয়ারা বেগম দাবি করেন, সুন্দরগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) ইজার আলী ও উপ পরিদর্শক (এস আই) পরিতোষ চন্দ্র কোন মামলা বা গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই মোশারফকে গত এক ফেব্রুয়ারি বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
 
তিনি আরো জানান, কিন্তু পরবর্তীতে সুন্দরগঞ্জ থানায় খোঁজ নিয়ে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, তার সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
 
এ নিয়ে গত ৪ ফেব্রুয়ারি পরিবারের পক্ষ থেকে সুন্দরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ছাড়া জেলায় নিয়োজিত অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও শরণাপন্ন হয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও তাকে আদালতেও হাজির করা হয়নি। 
 
মনোয়ারা বেগম বলেন, মোশারফ যদি কোন অপরাধ করে থাকে বা তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকে তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ি তাকে অবিলম্বে আদালতে হাজির করা হোক। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন প্রশাসনিক কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। 
 
এ ব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মো. আতিয়ার রহমান মুঠোফোনে বলেন, মোশারফ নামের কেউ থানায় নেই। আমরা তাকে নিয়ে আসিনি। তার নিখোঁজ হওয়ার কোনো তথ্য আমার জানা নাই।
 
প্রসঙ্গত: এমপি লিটন হত্যার পর জেলায় অতিরিক্ত পুলিশসহ একাধিক আইনশৃংখলা বাহিনী তদন্ত কাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় গত সোমবার (গত ৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দামোদরপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ারুল হাসান জিম মণ্ডল ও দামোদরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সাদেক উপজেলার লালবাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে নলডাঙ্গা রওনা হন। এরপর থেকে তারা মোটরসাইকেলসহ নিখোঁজ হন। 
 
পরদিন মঙ্গলবার (গত ১০ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নলডাঙ্গা কাচারিবাজার এলাকা থেকে ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিউল ইসলাম শাপলাকে ও বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে নলডাঙ্গা রেলগেট এলাকা থেকে নলডাঙ্গা ইউনিয়ন আ’লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাইদুল ইসলাম প্রিন্সকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেলসহ তুলে নিয়ে যায়। 
 
অপরদিকে গত ১১ জানুয়ারি সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রতাপ গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলাম রতন, গত ১২ জানুয়ারি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম ও গত ১৪ জানুয়ারি একই উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড (রামভদ্র গ্রাম) সদস্য রেজাউল ইসলাম লিটন ওরফে ডিস লিটন (৪০) কে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্য ধরে নিয়ে যায়। 
 
ইত্তেফাক/এএন