মুরাদনগরে শিক্ষার্থীকে মাদক বিক্রেতা সাজিয়ে পুলিশে দেয়ার চেষ্টা

কুমিল্লা মুরাদনগরে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে পুলিশে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। ছাত্রের নাম আরমান হোসেন। তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজিতে (এনআইইটি) পড়েন।
 
উপজেলার কামাল্লা গ্রামে জমি সক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ওই ছাত্র। তাকে নিজ গ্রামের মাদক ও অস্ত্র বিক্রেতা বলে তার বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্র।
 
এদিকে ওই ছাত্রের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ছেলেকে রক্ষার জন্য ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় শনিবার রাতে মুরাদনগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। 
 
অভিযোগে জানা যায়, সম্প্রতি ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের কিছু সম্পত্তি বেদখলের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি মামলার আসামি আক্তার হোসেন মুন্সি ও মেহেদি হাসান ও মেজবাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি চক্র নানাভাবে পায়তারা করে আসছে। এর মধ্যে গত ৩১ জানুয়ারি আরমানের ঘরে কিছু ইয়াবা রেখে কামাল্লা গ্রামে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ একজন মাদক ব্যবসায়ী অবস্থান করছে বলে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশকে খবর দেয় ওই চক্রটি।
 
এতে ডিবির এসআই আশিকুর রহমান এলাকায় গিয়ে ওই ছাত্রকে আটক করলেও পরোক্ষণে ঘটনাটি সাজানো নাটক জানতে পেরে ওই ছাত্রকে ছেড়ে দেয়।
 
আরমান হোসেন অভিযোগ করেন, ডিবি পুলিশ চলে যাওয়ার পর তার বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুরসহ লুটপাট করে স্থানীয় ওই চক্রটি। বর্তমানে তারা মাদক ও অস্ত্র বিক্রেতা বানিয়ে তাকে হয়রানীর চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করা হয়। 
 
এ ঘটনায় শনিবার রাতে ওই শিক্ষার্থীর মা নাসিমা আক্তার বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় ৩ জন এজহার নামীয়সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। 
 
ডিবির এসআই আশিকুর রহমান জানান, ইয়াবা রেখে মিথ্যা খবর দিয়ে আরমান হোসেন নামে এক ছাত্রকে ধরিয়ে দিতে চেয়েছিল একটি চক্র। বর্তমানে ওই চক্রটিকে আটক করার জন্য চেষ্টা চলছে। 
 
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/এএন/ইউবি