নাটোরের গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনন্দমোহনের বিরুদ্ধে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী কয়েকজন কর্মচারী জানান, হাসপাতালের উন্নয়নের কথা বলে নাম সর্বস্ব কাজ করে বিভিন্নভাবে বরাদ্দ আসা টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সম্প্রতি হাসপাতালের বিষ খাওয়া রুগীদের জন্য পৃথক শেড নির্মাণের জন্য ১লাখ ও হাসপাতালের ক্যাম্পাস পরিষ্কারের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। পরিকল্পনা মাফিক কাজ না করে পুরাতন উপকরণ ব্যবহার করে দায়সারাভাবে শেডটি নির্মাণ করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সীমিত সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে নাম মাত্র কাজ করে ক্যাম্পাস পরিষ্কারের নামে বরাদ্দ আসা অর্থও আত্মসাৎ করা হয়। তাছাড়া ভ্রমণ বিল, স্টেশনারি ক্রয়, ইন্টার্র্নি করতে আসা চিকিৎসকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া যে কোন ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে টাকা নেওয়া, কর্মচারীদের রেন্ট এন্ড রিক্রেশন বাবদ এক হাজার থেকে ১৫০০শ' টাকা নেওয়া হয়েছে। জেনারেটর বন্ধ থাকলেও গত মে-জুন মাসে ১৫ হাজার এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরে দু'হাজার তিনশ' টাকা অন্য কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানাযায়, ইন্টার্ন চিকিৎসক জান্নাতুল ও রিফাত আরার কাছ থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার নামে নেওয়া ১০ হাজার টাকা নেন ওই কর্মকর্তা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা যুব লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত পাড়ভেজ ও পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামের হস্তক্ষেপে গত ৩০ জানুয়ারি রাতে পাঁচ হাজার টাকা ওই কর্মকর্তার পক্ষে ফেরত দেন হাসপাতালের একজন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিষ খাওয়া রোগীদের শেড নির্মাণে লোহার রডের পরিবর্তে রোগীদের ব্যবহার করা পরিত্যক্ত বেডের ওপর সিমেন্ট বালির প্রলেপ দিয়ে টেবিল নির্মাণ করা হয়েছে। ওপরের ছাউনিতে টিনের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে হাসপাতালে ঝুলানো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গর্ভবতীর পাঁচটি বিপদ সংকেত, মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিচর্যার বিলবোর্ড। এছাড়া হাসপাতালের ক্যাম্পাসজুড়েই রয়েছে ময়লা আবর্জনা। প্রসূতি ভবনের পিছনের অংশে বড় বড় আগাছা রয়েছে। তার মাঝখানেই হাসপাতালের বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে। কোয়াটারের চারপাশেও একই অবস্থা। তাছাড়া হাসপাতালের সর্বত্রই এখন বিড়াজ করছে অযন্ত অবহেলার ছাপ।
গুরুদাসপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনন্দমোহন বলেন, 'তিনি নিজ উদ্যোগেই ক্যাম্পাস পরিষ্কার করেছেন।' তাছাড়া একটা মহল তাকে হেয় করতে এ ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি কোন টাকা আত্মসাৎ করেননি বলে জানান।
ইত্তেফাক/এসএস