খুলনায় শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

খুলনায় শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশ পরিহিত ডাকাতরা বাড়ির সদস্যদের হাত, পা ও মুখ বেঁধে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও অর্থ লুট করে নিয়ে গেছে। 
 
মঙ্গলবার ভোরে নগরীর ছবেদাতলার জাহিদুর রহমান সড়কের চৌধুরী ভিলা এবং রূপসা উপজেলার দেয়াড়া গ্রামে ডা. শাহীন আরা হকের বাসায় এসব ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে, পুলিশ এসব ঘটনাকে ‘চুরি’ বলে দাবি করেছে। 
 
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল মঙ্গলবার ভোর রাতে ১৫/১৬ জনের ডাকাত দল নগরীর ছবেদাতলার জাহিদুর রহমান  সড়কের চৌধুরী ভিলা নামক দোতলা বাড়ির নিচতলার বামপাশের গ্রিল কেটে ভাড়াটিয়া হামিদ আলী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক এস এম রফিকুল হক বাচ্চুর বাসায় প্রবেশ করে। ডাকাতদল তার ও তার স্ত্রীর হাত, মুখ বেঁধে ৪টি মোবাইল ফোন, ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে দ্বিতীয় তলায় যায়।
 
বাড়ির মালিক খুলনা ওয়াসার প্রকৌশলী হাবিবুল আলম চৌধুরীর চাচাতো ভাই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শহীদুল হক বলেন, দোতলা বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়া ঘরের গ্রিল কেটে ও দরোজা ভেঙে তাদের ঘরে ডাকাতি করে দোতলায় যায়। সেখানে তার ভাই, স্ত্রী ও ছেলের হাত, পা ও মুখ বেঁধে আলমারি খুলে নগদ প্রায় ৫২ হাজার টাকা ও ২৫/৩০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। দুই বাসা মিলিয়ে প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ডাকাতরা নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেন তিনি। ডাকাতদের কাছে দাসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ছিলো। 
 
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, একজন স্কুল শিক্ষকের বাসা থেকে নগদ ১৪/১৫ হাজার টাকা ও পৌঁনে তিন ভরি স্বর্ণ এবং প্রকৌশলী হাবিবুল আলমের বাসা থেকে ১৪/১৫ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন ও ১৮ ভরির মতো স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে গেছে। এ ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।
 
অপরদিকে, গতকাল মঙ্গলবার ভোর রাতে রূপসা উপজেলার দেয়াড়া গ্রামে খুলনা শিশু হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার শাহীন আরা হকের বাসায় ৭/৮ জনের মুখোশ পরিহিত সশস্ত্র ডাকাতদল জানালার গ্রিল কেটে প্রবেশ করে। তারা কৌশলে ঘরের দরোজা খুলে দ্বিতীয়তলায় তার কন্যা ফাহরিয়া হক বুশরা এবং জামাই স্থানীয় জেবিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অংকের শিক্ষক তামজিদুল আজীম কল্যাণের হাত ও মুখ বেঁধে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। 
 
খবর পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রূপসা থানার এসআই জাকারিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 
 
শাহীন আরা হকের স্বামী মোঃ ফজলুর রহমান বলেন, ডাকাতরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। অস্ত্রটি টেবিলের ওপর রেখে তাদের জিম্মি করা হয়। পরে আলমারি থেকে হীরার সেট, নগদ অর্ধ লক্ষাধিক টাকা এবং অন্যান্য মালামাল লুট করে। 
 
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘরের ছিটকানি খুলে কিছু টাকা এবং স্বর্ণ চুরি হয়েছে। বিষয়টি ডাকাতি নয়। এ বিষয়ে মামলা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 
ইত্তেফাক/এএন