লালমনিরহাটে তামাক চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা

 
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে অধিক লাভের আশায় তামাক চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। ফসল ঘরে তোলার আগেই অগ্রিম টাকা নিচ্ছেন এক শ্রেণির মহাজনদের কাছ থেকে। তামাক চাষের জন্য কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে কৃষকদের মাঝে অগ্রিম সার ও নগদ টাকাও দেয়া হচ্ছে।
 
জানাগেছে, লালমনিরহাটের আদিতমারীতে ঢাকা টোব্যাকো ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর পক্ষ থেকে তামাক চাষের শুরুতেই বিনামূল্যে বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল ক্রয়ের নিশ্চিতও করা হয় তাদের পক্ষ থেকে। তামাকের বিকল্প ফসল চাষের দাবি এখানকার কৃষকদের। কিন্তু কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিকল্প ফসল চাষের তেমন কোন তৎপরতা না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়ে তামাক চাষ করছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা।
 
সূত্র মতে, একই জমিতে একাধিকবার তামাক চাষ করায় জমির উর্বরতা হারিয়ে যাচ্ছে। আবার তামাক চাষের ফলে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের রোগ ব্যাধি। সারপুকুর ইউনিয়নের চাষি সিহাব উদ্দিন জানান, এ বছর তিনি তিন একর জমিতে তামাক চাষ করেছেন। কিন্তু নিজের পুঁজি না থাকায় মহাজনের কাছ থেকে অগ্রিম ১৮শ টাকা মণ দরে (৪০ কেজি) ৫ মণ তামাকের টাকা নিতে হয়েছে। একই কথা জানালেন উপজেলা সদরের বসিনটারী গ্রামে কৃষক নজু মিয়া। তিনিও দু'হাজার টাকা মণ দরে তিন-মণ তামাকের অগ্রিম টাকা নিয়েছেন।
 
সূত্র মতে, গত বছরের তুলনায় এবছর রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আদিতমারীতে তামাকের চাষ হয়েছে। গত বছর তামাক চাষে এখানকার কৃষকরা লাভবান হয়েছেন। তবে কৃষি বিভাগ কৃষকের এ তথ্য মানতে নারাজ। তবে কি পরিমাণ জমিতে এবছর তামাকের চাষাবাদ করা হবে সেই তথ্য তারা জানাতে পারেননি উপজেলা কৃষি অফিসার।
 
আদিতমারী উপজেলা কৃষি অফিসার বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানান, তামাকের বিকল্প ফসল চাষের জন্য কৃষকদের বিভিন্ন মিটিং সভায় বলা হয়ে থাকে। এছাড়াও তামাকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা হয় কৃষকদের মাঝে। তিনি দাবি করেন, যে পরিমাণ তামাক চাষে খরচ হয়, সমপরিমাণ অর্থ খরচ করলে অন্যান্য ফসলে লাভবান হতে পারবেন এখানকার কৃষকরা। দিন দিন তামাক চাষ বেড়ে চলেছে এ এলাকায়, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'তামাক চাষ বেড়ে চলেছে নয়, দিন দিন কমে যাচ্ছে।'
 
ইত্তেফাক/এসএস