মৎস্য সম্পদ ও মৎস্যজীবী মানুষের উন্নয়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিজ্ঞজনেরা। তারা সম্মিলিত প্রচেষ্টা গ্রহণসহ মৎস্যজীবীদের আত্মনির্ভরশীল ও সংগঠিত করতে ডাটাবেজ তৈরি ও হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আজ বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোস্ট ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘জাতীয় অর্থনীতিতে জেলেদের অবদানের মূল্যায়ন এবং স্বীকৃতি চাই’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ সব কথা বলেন তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ। কাস্ট ট্রাস্টের পরিচালক সনৎকুমার ভৌমিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, মৎস্য অধিদফতরের মৎস্য কর্মকর্তা গুলজার হোসেন, গবেষক আনিসুর রহমান, ইব্রাহিম পণ্ডিত, বরিশাল ক্ষুদ্র মৎস্য জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সিকদার প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে দুটি প্রেজেনটেসন উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট কোয়াডিনেটর জহিরুল ইসলাম এবং লিগ্যালএইড কনসালটেন্ট রিসাদ আলম।
উপস্থাপনায় জানান হয়, বছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ইলিশ ভোলাজেলা খেকে আসে। এই এলাকার পাঁচ লাখেরও অধিক মানুষ মৎসজীবী। কিন্তু তাদের অর্ধেকের সরকারের দেয়া কার্ড পায়নি। ইলিশ প্রজননকালে মাছধরায় নিষেজধাজ্ঞা দেয়া হয়। এসময় জেলেদের ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। এই জাল অর্ধেক মৎসজীবীও ও জেলেরা পায়। বাকি অর্ধেক যায় নানা সুবিধাভোগীদের কাছে। এসময় বিকল্প কর্মসংস্থানের কথাও জানান তারা।
প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, আলোচিত সমস্যা সমাধানে ডাটাবেজ করার কোনো বিকল্প নেই। ডাটাবেজ তৈরি হলে কৃষককে সনাক্তকরণসহ নানা সুফল পাওয়া যাবে। পাশাপাশি জেলেরা সংগঠিত ও সচেতন হলে তাদের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার হতে পারবে। ফলে তাদের জীবনমানের উন্নয়নও ঘটবে।
সমাজের মূলস্রোতধারায় সম্পৃক্ত হতে হলে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগেই জেলেদের উন্নয়ন সম্ভব নয়, নিজেদের স্বনির্ভর হতে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। আপতকালীন সময়ের জন্য জীবিকা নির্বাহের জন্য বর্ধিত আয়ের কিছু অংশ জমা রাখলে এতে তারা উপকৃত হবে।
এসময় প্রতিমন্ত্রী মাছ ধরার নিষেজধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিয়ে ভেটকি, চিংড়ি, কোরালসহ বিভিন্ন মাছের চাষ বাড়িয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা ও নিজেদের উন্নয়নের জন্য ‘পানিতে জাল দিয়ে মাছ চাষ’ পদ্ধতিতে মাছ চাষের ওপর সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
বক্তারা বলেন, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে জেলেদের মাছ ধারা বিরত রাখতে ‘হিলশা ম্যানেজমেন্ট প্লান' প্রকল্প সফল হওয়ার পর থেকেই ইলিশ উৎপাদন বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নজরদারিত্ব চলমান রাখতে হবে।
তারা বলেন, ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেদের জন্য বিশেষ প্রনোদনা থাকলেও বিতরণের সময় নানা অনিয়ম ও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জেলেরা।
এছাড়া উন্নত প্রশিক্ষণ পেলে মৎস্যজীবীরা জীববৈচিত্র্য রক্ষাসহ নিজেদের নানা প্রতিকূলতার বাইরে আনার সক্ষমতা লাভ করবে।
ইত্তেফাক/কাউছার