বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাসহ সকল কার্যক্রম বন্ধে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেন।
রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, এখন থেকে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে কোনো বিশ্বদ্যিালয় কার্যক্রম চালাতে পারবে না। এটা অপরাপর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কঠোর বার্তা।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালত অত্যন্ত কঠোর ভূমিকা নিয়েছে। যাতে শিক্ষাকে পণ্য হিসেবে আর কেউ ব্যবহার করতে না পারে।
ইষ্ট-ওয়েষ্ট ইউনির্ভাসিটির লিগ্যাল অ্যাডভাইজার ব্যারিস্টার খায়রুল আলম চৌধুরী বলেন, শুনানিকালে আদালত তার পর্যবেক্ষণ বলেছেন ৪০ বছরের পর কোনো ব্যক্তি আইনজীবী হিসেবে বার কাউন্সিলের সনদ নিতে পারবেন না। এছাড়া দুই বছর মেয়াদী এলএলবি কোর্স পরিচালনা করতে পারবে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। আর জেলা জজরা অবসরে যাওয়ার পর নিম্ন আদালতে মামলা পরিচালনা করার সুযোগ পাবেন না।
দারুল ইহসান নিয়ে মালিকানার দ্বন্দ্ব, বার কাউন্সিলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ বন্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একাধিক রিট আবেদন দায়ের করা হয়। গত বছরের ১৩ এপ্রিল হাইকোর্ট দারুল ইহসান বন্ধের রায় দেয়।
রায়ে বলা হয়, আইনের দৃষ্টিতে এটা (দারুল ইহসান) কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নয়। সুতরাং এটা ডেমোলিশ (বন্ধ) করতে হবে। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বছরের এলএলবি ডিগ্রি চার বছর করা এবং বার কাউন্সিলের ছাড়পত্র নিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে ভর্তির বিষয়ে আদেশ দিয়েছিল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে দারুল ইহসান, ইস্টওয়েস্ট, প্রাইম, ব্র্যাক, নর্থ-সাউথসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আপিল করে। শুনানি শেষে গতকাল দারুল ইহসানের আপিল খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। পাশাপাশি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আপিল নিষ্পত্তি করে দেয় আদালত।
ইত্তেফাক/কাউছার