প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির পর কাজে ফিরলেন চিকিৎসকরা

রোগীর সাধারণ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের কালীগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের ওপর হামলা ও হাসপাতাল ভাংচুর করা হয়। এতে তিন চিকিৎসক আহত হন। 
 
ঘটনার প্রতিবাদে ও হামলায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে ওই রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জরুরী বিভাগসহ সকল বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখেন চিকিৎসকরা।
 
ঘটনার একদিন পর বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্থানীয় সাংসদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। এ সময় আহত চিকিৎসক ও স্বাস্থ কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে সঠিক বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এরপর চিকিৎসাসেবা শুরু করেন চিকিৎসকরা।
 
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কলিঙ্গা গ্রামের বাবুল মিয়াকে (৪৫) কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে স্বজনরা। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনিস্টিটিউটে নিতে পরার্মশ দেন চিকিৎসকেরা।
 
অন্য এক রোগী নিয়ে হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স ঢাকাতে থাকায় রোগীর স্বজনদের বিকল্প এ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ির ব্যবস্থা করতে বলা হয়। গাড়ির ব্যবস্থা করার সময় রাত ৮টার দিকে বাবুল মিয়ার মৃত্যু হয় উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে।
 
খবর পেয়ে রোগীর স্বজনরা নিজেদের সরকারদলীয় লোক পরিচয়ে বাবুল মিয়ার চাচাশ্বশুর কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া গ্রামের আক্তার মোল্লা তার সঙ্গে ফয়সাল, জুলহাস, মামুন, সুমন, মাসুম, রূপগঞ্জ উপজেলার কলিঙ্গা গ্রামের অপু, কাশেম ভেন্ডারসহ অজ্ঞাত আরও সহযোগীদের নিয়ে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে হামলা চালায়।
 
তাঁরা কক্ষের দরজা, জানালা, কম্পিউটার, চেয়ার, টেবিল ও চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ভাংচুর করে। এ সময় বাধা দিলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মীর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ইনডোর চিকিৎসক আশীষ কুমার বণিক ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার মো. আব্দুল মোতালিবকে মারধর করে তারা।
 
কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার অরূপ কুমার দাস খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকেও লাঞ্ছিত করে হামলাকারীরা। 
 
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মুঃ মুশফিকুর রহমানের সহযোগীতায় ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। 
 
ডাঃ অরূপ কুমার অভিযোগ করেন, ঘটনার পর রাত সোয়া ৮টায় কালীগঞ্জ থানায় ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে রাত ৯টায়। অথচ স্বাস্থ কমপ্লেক্স থেকে থানার দূরত্ব মাত্র ৫০০ গজ।
 
জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আহত মীর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী  মেহের আফরোজ চুমকিকে জানানো হয়। তিনি দোষীদের গ্রেপ্তারে থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে তাঁদের জানিয়েছেন।  
 
উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিবল্পনা অফিসার ডাঃ মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান আকন্দ বলেন, আমাদের দাবি ছিল দোষী ব্যক্তিদের আটক করা। তারা আটক হয়েছে এবং হচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের উপযুক্ত বিচারের প্রতিমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে সবাই কাজে ফিরেছে। 
 
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলম চাঁদ জানান, এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিবল্পনা অফিসার ডা: মোহাম্মদ ছাদেকুর রহমান আকন্দ বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা (নং ২) দায়ের করেছেন । সেই মামলার প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ মামুন ও আক্তার মোল্লাকে আটক করেছে। বাকিদের আটকের চেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু