ফিট থাকতে প্রিয় খাবার ছেড়েছেন কোহলি

ফিটনেস ধরে রাখতে ক্রিকেটাররা না কত কসরতই করে থাকেন। ডায়েট, ব্যায়াম ক্রিকেটারদের নিত্যদিনের সঙ্গী। আধুনিক ক্রিকেটে অন্যতম ফিট ক্রিকেটার হলেন ভারতীয় মাস্টারক্লাস ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। আর এই ফিটনেস অর্জন করতে কোহলি ছাড়তে হয়েছে প্রিয় অনেক খাবার । 
 
আনন্দবাজার জানিয়েছে, ক্রিকেটকে ক্রমশ অ্যাক্রোব্যাটিক করে তুলছেন বিরাট কোহালি। প্যাকেজড ফ্রুট জুস, বাটার চিকেন, তন্দুরি রুটি বা চাপাটি কোন কিছুই মুখে তোলেন না। এগুলোই যে তাঁর অসামান্য ফিটনেসের রহস্য।সপ্তাহে পাঁচ দিন কঠিন ওয়ার্ক আউট করার পাশাপাশি ভারতীয় অধিনায়ক তাঁর খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে এতটাই সচেতন, তা নাকি নিজে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।
 
যাঁরা কাছ থেকে দেখেন এই বিরাট সংযম, তাঁদেরই কথা এটা। দশ বছর আগেও যাঁরা বিরাটকে নিয়মিত দেখেছেন, তাঁরা আরও বিস্মিত ইন্ডিয়া ক্যাপ্টেনের এই অতিসংযমী জীবনে। এমনই একজন তাঁর ছোটবেলার কোচ রাজকুমার শর্মা। রবিবার যিনি তাঁর অ্যাকাডেমিতে এনে বিরাটকে সংবর্ধনা দেওয়ার পরে বুঝতে পারলেন, ভারতীয় ক্যাপ্টেন তাজা ফলের রস ছাড়া কিছু খান না।
 
‘বিরাটকে আপনি প্যাকেজড ফ্রুট জুস অফার করুন। ও অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তা ফিরিয়ে দেবে’, দিল্লি থেকে ফোনে বলছিলেন রাজকুমার। তিনি বলে চলেন, ওকে তাজা ফলের রস দিতে হবে। আর একটা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের মিনারেল ওয়াটার। এ ছাড়া ও কিছুই খাবে না।
 
আঠাশের তরুণ ভারতীয় ক্যাপ্টেন সর্বদাই সচেতন তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে। রাজকুমার তাঁর ছাত্রকে নিয়ে বলছেন, আমি মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যাই ওর খাওয়াদাওয়ার কথা শুনে। এই বয়সের একটা ছেলে বছরের একটা দিনও নিজের ডায়েটের নড়চড় করে না, এটা ভাবতেই অবাক লাগে। আমরাও ভাই এই বয়সটা পেরিয়ে এসেছি। এই বয়সের কত ছেলে দেখেছি। বিরাটের মতো এত সংযম দেখা তো দূরের কথা ভাবতেও পারি না। ক্রিকেট না ছাড়া পর্যন্ত এই কঠোর সংযম চলবে ওর।
 
কেমন সেই কঠোর ডায়েট? কোচের কাছেই জানা গেল। বললেন, দশ বছর আগেও যে ছেলেটা বাটার চিকেন আর মাটন রোল খেতে ভালবাসত, তাঁর জীবন থেকে যে এগুলো জাস্ট উধাও হয়ে গিয়েছে, এটা ভাবলেই অবাক হয়ে যাই। আবার পরক্ষণেই এও মনে হয় যে, এই অসাধারণ গুণ ওর মধ্যে আছে বলেই তো ও এত সফল, বিশ্বসেরা। ক্রিকেট-প্রতিভা তো ওর মধ্যে ছোট থেকেই আছে। কিন্তু ফিটনেস ধরে রাখার এই সাঙ্ঘাতিক প্রবণতাটা গত কয়েক বছরেই বেড়েছে। এটা আগে ছিল না।
 
রবিবার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে পরে বিরাটের সঙ্গে কথা বলে রাজকুমারের ধারণা হয়েছে, তাঁকে ফিটনেস ফ্যানাটিক বললেও কম বলা হয়, ভাবতে পারবেন না কি ত্যাগ আর সংযম ছেলেটার। পঞ্জাবিদের সবচেয়ে পছন্দের রুটি, তাও খায় না ও। পাছে শরীরে কার্বোহাইড্রেট বেড়ে যায়, সেই জন্য। কফি খায় চিনি ছাড়া, ভাবতে পারেন? বেশির ভাগই শুধু সেদ্ধ সব্জি আর চিকেন। এক ফোঁটাও মশলা থাকে না তাতে। আনন্দবাজার।
 
ইত্তেফাক/রেজা