রংপুরের পীরগাছায় ২য় শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে এক শিক্ষিকা নির্মম প্রহার করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। গত বুধবার ওই শিক্ষার্থীকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুুপুরে স্থানীয় অভিভাবকরা বিদ্যালয়টি ঘেরাও করে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে।
জানা যায়, উপজেলার কুটিপাড়া প্রাইমারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী হাসি আক্তার(৭) রোল-৩৫ গত মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। শেষ পিরিয়ডে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আনজুমান-আরা বেগম শ্রেণী কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের কাছে পড়ার বিষয়ে জানতে চায়।
শিক্ষার্থীরা দেরিতে পড়ার বিষয় জানালে শিক্ষিকা আনজুমান আরা বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে স্টিলের স্কেল দিয়ে একাধিক শিক্ষার্থীকে মারপিট করে। এ সময় শিক্ষার্থী হাসি আক্তার গুরুতর আহত হয়। ওই শিক্ষার্থীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষিকা আনজুমান আরা বেগম ঘটনার দিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে ভূয়া মেডিকেল সনদপত্র দেখিয়ে ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে আত্মগোপনে যান।
এদিকে শিক্ষার্থীকে আহত করে কর্তৃপক্ষের যোগসাজসে আনজুমান-আরা বেগম ছুটি নিয়ে আত্মগোপনে থাকা ও তার বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় অভিাভাবকরা বিদ্যালয়টি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।
শিক্ষার্থী হাসি আক্তার উপজেলার ছাওলা ইউপির রতনপুর গ্রামের আম্বার আলীর মেয়ে ।
হাসি আক্তারের পিতা আম্বার আলী জানান, তার মেয়েকে শিক্ষিকা আনজুমান আরা বেগম শ্রেণীকক্ষে বেধড়ক মারপিট করায় গুরুত্বর আহত হয়। পরে তার অবস্থা গুরুতর হলে বুধবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসি আক্তারের অবস্থা এখনো আশঙ্কামুক্ত নয় বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।
কুটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে না পাওয়ায় তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রফিক-উজ-জামান এর সঙ্গে অফিসে গিয়ে ও মোবাইলে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম জানান, আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।
ইত্তেফাক/নূহু