পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর বদলী

 
জামালপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। এ বিষয়ে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর নির্বাহী প্রকৌশলী বিতরণ বিভাগ জামালপুর এসএম ইকবাল হোসেনসহ ময়মনসিংহ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (টাঙ্গাইল) এই দু’জনকে অন্যত্র বদলীর আদেশ দিয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
 
জানা যায়, জামালপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)র নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম ইকবাল। তিনি ইসলামপুর উপজেলার ৪নং চর এলাকায় রাইস মিলস স্থাপনের জন্য ৩ লাখ টাকা, সেচ পাম্পের জন্য ৬০ হাজার টাকা এবং প্রতিটি আবাসিক সংযোগের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার টাকা করে স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে উৎকোচ গ্রহণ করেন। এতে ৩টি রাইস মিলস, ৩০/৩৫টি সেচ পাম্প এবং ১৩০টি আবাসিক সংযোগ দেয়ার কথা বলে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা উৎকোচ হাতিয়ে নেন।
 
পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে গত ২৩ জানুয়ারি তারিখে জাপানের দাতা সংস্থা জাইকার সেন্ট্রাল জোন প্রকল্পের নলেরচর শিশুপাড়া থেকে ১৭টি (১১কেভিএ) খুঁটি উত্তোলন করে নিয়ে ৪ নং চর পল্লী বিদ্যুৎ বাস্তবায়িত এলাকায় পিডিবির নতুন লাইন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এ কারণে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সেচ পাম্পসহ ঘরে-ঘরে ওয়ারিং সম্পন্ন প্রায় শতাধিক গ্রাহকের সংযোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ জন্য পল্লী বিদ্যুৎ বঞ্চিত ভুক্তভোগীদের পক্ষে ৪নং চর নতুনপাড়ার এলাকার বাসিন্দা জুয়েল রানা বাদী হয়ে জামালপুর জজ আদালতে নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম ইকবাল হোসেনসহ ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২২/১৭ তারিখ ২৬/০১/১৭ইং।
 
এ বিষয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে পরবর্তী নির্বাহী প্রকৌশলী বাঁচার তাগিদে নতুন লাইন নির্মাণের অনুমোদন নিতে সক্ষম হন। কিন্তু ততদিনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)এর নিরাপত্তা ও অনুসন্ধান পরিদফতর থেকে মাছুদুর রহমান (এডি) এসে উপস্থিত হয়ে সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে তার প্রতিবেদন দাখিল করেন।
 
এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাহী প্রকৌশলী বিতরণ বিভাগ জামালপুর এসএম ইকবাল হোসেনকে ঘোড়াশাল পাওয়ার গ্রিডে এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (টাঙ্গাইল)কে চট্টগ্রাম পাওয়ার গ্রিডে বদলির আদেশ দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। বদলীর আদেশে উল্লেখ রয়েছে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।
 
ইত্তেফাক/আরএ