দুর্নীতির অভিযোগে শারজিল খান ও খালিদ লতিফকে প্রাথমিক ভাবে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। একই সাথে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া পাকিস্তান সুপার লীগে (পিএসএল) এই দু’জনের অংশগ্রহণের ব্যপারেও নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে।পিসিবি’র এক বিবৃতিতে এই কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু এ ব্যপারে বিস্তারিত কিছুই জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে সাম্প্রতীক সময়ে এই দু’জন পাকিস্তান ক্রিকেটে স্পট ফিক্সিং ও অবৈধ বেটিংয়ের সাথে জড়িত ছিল।
পিএসএল জানিয়েছে তাদের সাথে হয়তবা আন্তর্জাতিক কোন সিন্ডিকেটের যোগাযোগ হয়েছিল যাদের মাধ্যমে পিএসএল’এ দূর্নীতি হতে পারতো। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত পিএসএল এর প্রথম ম্যাচে পেশোয়ার জালমির বিপক্ষে ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে শারজিল মাঠে নেমে চার বলে মাত্র এক রান সংগ্রহ করেন। লতিফ এই দুই দলে ছিলেন না। ম্যাচে ইসলামাবাদ ৭ উইকেটে জয়ী হয়।
২৭ বছর বয়সী শারজিল পাকিস্তানের সদ্য সমাপ্ত অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে ছিলেন। সেখানে তিনি একটি টেস্ট ও পাঁচটি ওয়ানডেতেই খেলেছেন। এ পর্যন্ত পাকিস্তানের হয়ে শারজিল ২৫টি ওয়ানডে ও ১৫টি টি২০ ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। এদিকে ৩১ বছর বয়সী লতিফ গত বছর ভারতের পাকিস্তানের টি২০ বিশ্বকাপের দলে ছিলেন। পাকিস্তানে হয়ে লতিফ পাঁচটি ওয়ানডে ও ১৩টি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন।
পাকিস্তান সুপার লীগের চেয়ারম্যান নাজিম শেঠী বলেছেন, ‘এ ব্যপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কিন্তু তদন্তের ব্যপারে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলা যায় দূর্নীতির বিপক্ষে পাকিস্তান জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। তদন্ত এগিয়ে নেবার ব্যপারে যেকোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণে পিসিবি পিছু হটবে না।’
পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান বলেছেন, খেলোয়াড়রা দূর্নীতির পরবর্তী ফলাফল সম্পর্কে অবগত আছে। শাহরিয়ার খান অবশ্য করাচি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, আমাদের কাছে উভয় খেলোয়াড়ের বিপক্ষে অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যপারে আমরা তদন্ত করছি। শারজিল আমাদের সাথে একই বিমানে দুবাই থেকে ফিরেছে, তবে তার সাথে আমার দেখা হয়নি।
শনিবার আবারো মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইসলামাবাদ। ইতোমধ্যেই শারজিল ও লতিফের বদলী খেলোয়াড়ের জন্য সংশ্লিষ্ট দলগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অতীতেও বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দূর্ণীতির দায়ে বিশ্বব্যপী সমালোচিত হয়েছে। সাবেক অধিনায়ক সেলিম মালিক ও আতাউর রেহমান ২০০০ সালে আজীবন নিষিদ্ধ হন। ১৯৯৫ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে শেন ওয়ার্ন, টিম মে ও মার্ক ওয়াহকে ঘুষ প্রস্তাবের দায়ে মালিককে সাজা দেয়া হয়েছিল। ২০১০ সালে লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অধিনায়ক সালমান বাট, মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ আসিফকে জেলে প্রেরণ ও পরবর্তীতে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। ২০১২ সালে লেগ স্পিনার দিনেশ কানেরিয়া স্পট ফিক্সিংয়ে দায়ে আজীবন নিষিদ্ধ হন।
সম্প্রতী এই নিষেধাজ্ঞার কারনে হয়তবা শারজিলের সাথে চুক্তি বাতিল করতে পারে ইংলিশ কাউন্টি দল লিস্টারশায়ার। চলতি বছর টোয়েন্টি২০ ব্ল্যাস্টে শারজিলের খেলার কথা ছিল।
ইত্তেফাক/রেজা