প্রতিকেজি চালের মূল্য দুই টাকা কমিয়ে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত ঘোষণা
মতিউর রহমান, দিনাজপুর অফিস
প্রতিকেজি চালের সংগ্রহ মূল্য দুই টাকা কমিয়ে এবার বোরো সংগ্রহ অভিযানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে খুশি দিনাজপুরের মিল-মালিকরা। তবে সরকার সংগ্রহ মূল্য যা-ই নির্ধারণ করুক না কেন, উত্পাদিত বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়ে বরাবরের মতো এবারও সন্দিহান জেলার কৃষকরা।
জানা যায়, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার গত বৃহস্পতিবার ঢাকার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভায় আসন্ন বোরো সংগ্রহ অভিযানের সংগ্রহমূল্য ঘোষণা করেন। এতে আসন্ন বোরো সংগ্রহ অভিযানে প্রতিকেজি সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা, আতপ চাল ৩৫ টাকা এবং প্রতিকেজি ধানের মূল্য ঘোষণা করা হয় ২৬ টাকা। একই সঙ্গে ১০ লাখ টন সিদ্ধ চাল এবং দেড় লাখ টন করে আতপ চাল ও ধান সংগ্রহের ঘোষণা দেওয়া হয়।
গতবছর প্রতিকেজি সিদ্ধ চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩৮ টাকা, আতপ চালের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৩৭ টাকা এবং প্রতিকেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৬ টাকা। গতবছর আট লাখ টন সিদ্ধ চাল, এক লাখ টন আতপ চাল এবং দেড় লাখ টান ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গতবছর ৮ এপ্রিল এই বোরো সংগ্রহ অভিযানের কথা ঘোষণা করেন তত্কালীন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এবার ধানের মূল্য ঠিক থাকলেও প্রতিকেজি চালের সংগ্রহ মূল্য দুই টাকা করে কমিয়েছে সরকার। এরপরও খুশি ধানের জেলা দিনাজপুরের মিল-মালিকরা।
দিনাজপুর চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোসাদ্দেক হুসেন জানান, সরকার এবার বোরো সংগ্রহ অভিযানের যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, তাতে ব্যবসায়ীদের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তিনি জানান, মিল-মালিকরা সরকারকে এবার প্রতিকেজি সিদ্ধ চালের মূল্য ৩৭ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু তা না করে সরকার প্রতিকেজি চালের মূল্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করলেও তাতে তারা খুশি। আগাম এই দাম ঘোষণা করায় কৃষকরা লাভবান হবেন, মধ্যস্বত্ব ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন এবং মিল-মালিকদের কোনো সমস্যা হবে না।
দিনাজপুরের সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন জানান, সরকার বোরো ধানের দাম যা-ই নির্ধারণ করুক না কেন, ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ী ও মিল-মালিকরা। মধ্যস্বত্ব ব্যবসায়ী ও মিল-মালিকদের বেঁধে দেওয়া দামেই বাধ্য হয়ে ধান বিক্রি করতে হয় তাদের। এতে অনেক সময় ধান আবাদ করে লাভ তো দূরের কথা, উত্পাদন খরচ তোলা নিয়ে হিমসিম খেতে হয় তাদের। আর প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বোরো ধানের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়ে সন্দিহান এই কৃষক।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদ ইকবাল জানান, দিনাজপুর জেলায় এবার এক লাখ ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার দিনাজপুরে বোরোর উত্পাদন সাত লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে।