* গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী কমেছে সাড়ে আট হাজার
* ২০১৭ সালে এসএসসি উত্তীর্ণ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না
মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লাসহ সারাদেশে সোমবার থেকে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে চলতি বছরে এইচএসসি পরীক্ষার্থী গত বছরের তুলনায় সাড়ে আট হাজার কমেছে। এ ছাড়া, নানা কারণে বেড়েছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৪০ শতাংশেরও বেশি এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে না। এদিকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বিলম্বে প্রশ্নপত্র বিতরণ ও ভিন্ন সিলেবাসের প্রশ্নপত্র প্রদানের ঘটনায় আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায়ও সঠিকভাবে প্রশ্নপত্র পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। তবে বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছেন, এবার ওই ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ছয়টি জেলায় ৯৫ হাজার ১৪৮ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী ৬৫ হাজার ৭৯৪ জন এবং অনিয়মিত ২৭ হাজার ৯৪৮ জন। গত বছর এ বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিল এক লাখ তিন হাজার ৬৬৬ জন। গত বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থী কমেছে আট হাজার ৫১৮ জন। এদিকে ২০১৭ সালে এ বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় এক লাখ ৮২ হাজার ৯৭৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে এক লাখ আট হাজার ১১ জন উত্তীর্ণ হলেও এদের মধ্যে ৪২ হাজার ২১৭ জন এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।
কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নার্গিস আক্তার বলেন, ‘অভিভাবকদের সচেতন না হওয়া, টেস্ট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়া, ফেসবুক ও তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, মাদকাসক্তি, বাল্যবিবাহ, সামাজিক অবক্ষয়ের প্রভাব, পারিবারিক পরিবেশ ও আর্থিক অসচ্ছলতা, কর্মক্ষেত্রে জড়িয়ে পড়াসহ শিক্ষকদের যথাযথ মনিটরিংয়ে ঘাটতির কারণে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং শিক্ষকদের মনিটরিং ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে।’
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রতন কুমার সাহা জানান, ‘মানসম্মত শিক্ষকের অভাব এবং ইংরেজি, গণিত ও আইসিটিতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকাসহ নানা কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। পাশাপাশি বিগত সময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রবণতা ছিল। কোচিং সেন্টার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হওয়ায় আরো কিছু শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। শুধু শহর নয়, গ্রাম পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ করা হলে এ সমস্যার উত্তরণ ঘটানো সম্ভব হবে।’
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া জানান, ‘ঝরে পড়া রোধে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়ে মতবিনিময় করেছি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কিভাবে লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী করা যায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এইচএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে কেন্দ্র সচিবদের নিয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ছয়টি জেলার ১৮৬টি কেন্দ্রে এবার এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে কুমিল্লায় ৭৫টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৭টি, চাঁদপুরে ৩৩টি, নোয়াখালীতে ২৪টি, লক্ষ্মীপুরে ১৫টি ও ফেনীতে ১২টি কেন্দ্র রয়েছে।