ইত্তেফাকের আমন্ত্রণে সুরে, আড্ডায়...

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রীতি সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হয় গত ১১ ফেব্রুয়ারি। ঢাকা ক্লাবে দেশের সুধীজন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মিলন মেলায় গান পরিবেশন করেন দেশের জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অণিমা রায়।

দৈনিক ইত্তেফাকের এই সন্ধ্যা সাংস্কৃতিক আয়োজনটি মূলত প্রাণ খোলা আড্ডা আর গান-সুরের মূর্চ্ছনায় সমৃদ্ধ ছিল। সন্ধ্যা থেকেই ভেন্যুতে আমন্ত্রিত অতিথিরা এক এক করে হাজির হন। ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন আগত অতিথিদের স্বাগত জানান। সম্পাদকের স্বাগত বক্তব্যসহ বরেণ্য আইনজীবী ব্যরিস্টার আমির-উল-ইসলাম ও দেশবরেণ্য সাংবাদিক দৈনিক ইত্তেফাকের প্রাক্তন সহকর্মী গোলাম সরওয়ারের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে গান পরিবেশন করেন অণিমা রায়। অণিমার পরিবেশনায় ছিল ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’, ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’, ‘একটুকু ছোঁয়া লাগে’, ‘ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে’, ‘প্রাণ চায় চক্ষু না চায়’, ‘সুখের লাগি চাহে প্রেম’সহ বেশ কিছু রবীন্দ্রসংগীত। পরবর্তীতে ছিল বিশিষ্ট বংশীবাদক গাজী আব্দুল হাকিমের একক বাঁশি পরিবেশনা। সুরের স্নিগ্ধতায় মোহাবিষ্ট করে রাখেন তারা গোটা সন্ধ্যা।

নিরব হোসেন :যশোর থেকে ঢাকা ফিরলেন দুপুরে। বেশ কয়েকমাস আগে দেশে ফিরলেন বলিউডে চলচ্চিত্র মুক্তির প্রচারণা করে। বলিউডে ছবির কাজ করতে গিয়ে নতুন কোনো ডায়েট চার্ট ফলো করছেন কি না কে জানে। ইত্তেফাকের প্রীতি সম্মিলন অনুষ্ঠানে এসেছেন মিনিট বিশেক হাতে নিয়ে। ডিনারের আমন্ত্রণ কিন্তু নীরবের ডিনার মেন্যু সীমাবদ্ধ ছিল দই আর মিষ্টিতে।

জাহিদ হাসান :অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সোজা উঠে গেলেন লিফটের চারতলায়। কিন্তু অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ তো দোতলায়। পরে নিজেই বললেন ভুল করে চারতলায় উঠেননি। নিজের ব্যক্তিগত কাজে এসেছিলেন, কিন্তু ইত্তেফাকের প্রীতি সম্মেলন শুনে স্থির থাকতে পারছিলেন না। সময় করে মিনিট দশেকের জন্য ঘুরে গেলেন দোতলায়। ‘বিনোদন কড়চা’-র পোস্টারের সামনে ছবি তুলতে গিয়ে আশপাশে কাকে যেন খুঁজছেন। এরপর খুনসুটি করে বলে দিলেন পোস্টারের মতো পাশে একটা নায়িকা থাকলে মন্দ হতো না।

বন্যা মির্জা :অনুষ্ঠান প্রায় শেষ, ঠিক সে সময়টায় হাজির হয়েছেন বন্যা মির্জা। এসেই চলে গেলেন ফটো বুথ কর্নারে। ছবির পোজ দিতে দিতে বললেন অনুষ্ঠানে শেষে আসার রহস্য। সবার শেষে আসায় সবাই নাকি তাকেই বেশি মনে রাখবে। মানুষ টেনশনে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে আর বন্যা মির্জা নির্বাচনে জেতার আনন্দে নাওয়া-খাওয়া ছেড়েছেন। অনুষ্ঠান শেষের দিকে এসে অবাক করার মতো ঘটনা খাবার টেবিলেও। হাতে গুণে মাত্র একটা মিষ্টি খেলেন।    

মামনুন হাসান ইমন :নিরব বের হচ্ছেন আর ইমন অনুষ্ঠানে ঢুকছেন। সেখানে চলল দুই বন্ধুদের খানিক দুষ্টুমি। নরসিংদী থেকে সোজা অনুষ্ঠানে এসে যোগ দিলেন ইমন। ভ্রমণের ছাপটা চোখেমুখে না থাকলেও লিফটে উঠতেই মজা করে বললেন, ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করে আগে আমি কিন্তু খাবার টেবিলে যাব। খ্যাতির বিড়ম্বনা কেমন সেটা কাল ইমনকে দেখেই বোঝা গিয়েছে। ক্ষিধে পেয়েছে কিন্তু কাউকে বলতে পারছে না, কী অদ্ভুত!

আনজাম মাসুদ :দেশসেরা উপস্থাপকদের সংগঠন প্রেজেন্টার্স প্লার্টফর্মের সাধারণ সম্পাদক আনজাম মাসুদ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছেন কয়েকজন তারকা নিয়ে। এরমধ্যে উপস্থাপিকা শান্তা জাহান এবং নৃত্যশিল্পী ইভান শাহরিয়ার সোহাগও ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানে যদি সবচেয়ে বেশি সময় থাকা অতিথির পুরস্কার থাকত, সেটা হয়তো জুটত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা উপস্থাপক বাহিনীর। অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তে পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেনকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠান থেকে বিদায় নেন তারা।

সামিনা চৌধুরী :লিফট থেকে নেমে তিনি নিজেই যেন অবাক। এর পিছনে কারণ—অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণের সাজসজ্জায়। আর এতটাই মুগ্ধ হলেন তিনি, নিজেই বলা শুরু করে দিলেন, ‘এই শোনো আমাকে এইখানে একটা ছবি তুলে দাও তো।’ বিনোদন কড়চা-র পোস্টার দেখে নিজেই যেন আফসোস শুরু করে দিলেন। ইশ এখন আর এই পোস্টার দেখা যায় না। আগেও তো রিকশা-বেবিট্যাক্সির পিছনে এই শিল্প থাকত, এখন সেটাও হারিয়ে গেছে। অনুষ্ঠান শেষে হলে এই ছবি নাকি তিনি বাঁধাই করে রেখে দিবেন।

তপন চৌধুরী :অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালীন তার আগমন। নিচ থেকে দোতলার হল রুমের রবীন্দ্রসংগীত শোনা যাচ্ছে। লিফটে উঠতে উঠতে গুনগুন করে শুরু করে দিলেন দোতলার রুম থেকে ভেসে আসা ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গানটি। মুহূর্তের মধ্যে দেখা গেল তার বয়স যেন হঠাত্ করে কমে গেল। ফটো বুথে গিয়ে একজনের ছবিতোলা দেখে তো নিজে এগিয়ে গিয়েই বলে দিলেন, ‘আরে... এভাবে না, এইভাবে মাথাটা নিচু করে একটু পোজ দাও।’ এরপর গেলেন পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে। তাকে দেখে বলে দিলেন, ‘আরে, তপন তোমাকে তো আমি সামনাসামনির চেয়ে পত্রিকার পাতাতেই বেশি দেখি।’
ইত্তেফাক/নূহু