গাজীপুরে টঙ্গীর শিলমুন এলাকায় আজ সোমবার দুপুরে ক্যাথারসিস হাসপাতালে অপারেশনের পর সেলিম চৌধুরী (৩২) নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালে ভাঙচুর করেছে নিহতের স্বজনরা। মৃত সেলিম টঙ্গীর গোপালপুর এলাকার মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর ছেলে।
মৃতের স্বজনরা জানান, গত ১১ ফেব্রুয়ারি বিকালে পিত্তথলিতে পাথর সংক্রান্ত অসুস্থতা নিয়ে সেলিম হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে ১২ তারিখ রাতে তার অপারেশন করেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকলে কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান সহযোগি অধ্যাপক ডা. আহমেদ উজ্জামান। অস্ত্রোপচারের পর তাকে পোস্ট অপারেশন বেডে রাখা হয়। সেখানে থাকা অবস্থায় সোমবার সকালে সেলিমের অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তারের নির্দেশে তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করার পর মৃত্যু হয়।
স্বজনদের দাবি, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় সেলিমের মৃত্যু হয়েছে। রোগী মৃত্যুর পর ডাক্তার, নার্সসহ কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়েছে।
এ খবরে নিহতের স্বজনরা বেলা ১১টার দিকে হাসাপাতালে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় সেলিম মারা গেছে দাবি করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা হাসপাতালের আসবাবপত্র, জানালা-দরজার কাঁচ এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ দুইটি গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিহতের স্বজনদের সঙ্গে বসে সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা হাসপাতালের পাশের টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়ক প্রায় আধাঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে টঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। IMG0
চিকিৎসক আহমেদ উজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সেলিমের অপারেশন সঠিকভাবেই করা হয়েছে। মেশিনের সাহায্যে ২০-২৫ মিনেটে পিত্তথলীর পাথর অপারেশন করা হয়েছে। এর ঘণ্টা খানেক পর তার জ্ঞানও ফিরে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অপারেশন পরবর্তীতে রোগীর রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এক্ষেত্রে তা হতে পারে।
টঙ্গী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদার জানান, মৃত রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের জানালার গ্লাস ও দুইটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে। বিক্ষোভকারীরা হাসপাতালের পাশের সড়কে অবরোধের চেষ্টা করলে তাদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
ইত্তেফাক/মাহমুদুল ইসলাম