এফআর টাওয়ারের সাততলায় বিদ্যুতের সাব-স্টেশন থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটি। ভবনের সাততলা ফ্লোরটির মালিক সেলিম উল্লাহ। ওই ফ্লোরে তার বায়িং হাউজের অফিস। তিনি এফআর টাওয়ার ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সহ-সভাপতি। ফ্লোরের মালিকানা নিয়ে ডেভেলপারের সঙ্গে ওই ভবনের জমির মালিক প্রকৌশলী এ এম এইচ আই ফারুকের দ্বন্দ্ব রয়েছে। ওই ভবনের নীচতলা ও সাততলায় গ্যাস সংযোগ রয়েছে। সাততলায় রান্নাঘরে সেলিম উল্লাহর অফিসে আপ্যায়নের জন্য রান্না হতো। সাততলা থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে ভবনের কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন। কারণ সেখানেই বিদ্যুতের সাব-স্টেশন এবং রান্নার জন্য চুলা রয়েছে।
এফআর টাওয়ারের ভূমি মালিক, ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের কারণে ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ নানা ধরনের সমস্যা থাকার পরেও সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই ভবনের দুইটি লিফট থাকলেও একটি লিফট দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। দুই ফুট ও ৪ ফুট প্রশস্তের দুইটি সিঁড়ি দিয়ে ভবনের অফিসের লোকজন ওঠা-নামা করেন। নয়তলার ফ্লোরে দুই সিঁড়ির মুখে দরজা স্থাপন করেছেন ফ্লাট মালিক সমিতির সভাপতি ও সহ-সভাপতি। অগ্নিকাণ্ডের দিন উদ্ধার হওয়া অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, ঘটনার পর নয়তলার সিঁড়ির দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে ৭ তলা থেকে ৯ তলা পর্যন্ত অনেকেই আটকা পড়েন।
এফআর টাওয়ারের ম্যানেজার বেলায়েত হোসেন জানান, জমির মালিক ফারুক সাহেব এক সময় ফ্ল্যাট মালিক সমিতির কাছে জিম্মি হয়ে পড়েন। নকশাবহির্ভূতভাবে ১৮ তলা থেকে ২৩ তলা করার ব্যাপারে তিনি রাজউকের কাছে অভিযোগ করেন। কিন্তু রাজউকের কাছ থেকে এব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করতেও তিনি কয়েকবার উদ্যোগ নেন। কিন্তু ফ্ল্যাট মালিক সমিতির নেতারা তার কোনো কথা শোনেননি। এরপর তিনি (ফারুক) ২০১৭ সালে ফ্ল্যাট মালিক সমিতির বিরুদ্ধে আদালতে একটি রিট করেন। কিন্তু ওই রিটের পরেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। রূপায়ন গ্রুপ ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির নেতারা বিষয়টিকে পাত্তা দেননি। ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণে তারা কখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে ফ্ল্যাট মালিক সমিতির নেতারা মুখ খুলছেন না। গত দুই দিন এফআর টাওয়ারের সামনে ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সহ-সভাপতি সেলিম উল্লাহকে ঘেরাফেরা করতে দেখা গেছে। এসময় গণমাধ্যম কর্মীরা এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলেও তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।