যারা হরর মুভি দেখতে ভালোবাসেন তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যারা হলিউডের হরর মুভি উপভোগ করেনি। হলিউডের হরর মুভির বিশ্বব্যাপী একটি খ্যাতি রয়েছে। হলিউডের এসব মুভি দেখার সময় ভয়ে গা ছমছমে একটি ভাব তৈরি হয়। দুর্বল চিত্তের মানুষদের উঠে দাঁড়িয়ে টয়লেটে যেতে কখনও ভয় কাজ করে।
তবে নির্মাতা ও কলাকুশলীরাও হরর মুভি বানাতে গিয়ে ভয়াল পরিস্থিতিতে পড়েছেন। আর এসব পরিস্থিতিতে তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন। এমন কয়েকটি মুভি হলো--
রোজমেরি’স বেবি
একদিকে পুরস্কারে ভরে গিয়েছিল এই মুভির ঝুলি। আরেকদিকে, স্রেফ হেট মেলে পাগল হয়ে যাওয়ার দশা হয়েছিল ছবির প্রযোজকের! ভদ্রলোকের নাম উইলিয়াম কাস্ল। বি-গ্রেড মুভির পরিচালক। ‘রোজমেরি’স বেবি’ও প্রথমে তারই পরিচালনা করার কথা ছিল। কিন্তু পরে সেই জায়গায় আসেন রোমান পোলানস্কি। কাস্ল নেন প্রযোজনার ভার। ছবি মুক্তির পর থেকেই চিঠি পেতে থাকেন তিনি। প্রত্যেকটা চিঠির বয়ান এক— অশুভকে পৃথিবীর বুকে নিয়ে আসার জন্য দায়ী তিনি। দিনে মোটামুটি ৫০টা এ রকম চিঠির ধাক্কা সামলাতে সামলাতেই শারীরিক গোলযোগও দেখা দেয় কাস্লের। ইউরিনারি ট্র্যাক্টে ব্লকেজ, ঘন ঘন কিডনি স্টোন— সব মিলিয়ে তখন বেশ বেসামাল অবস্থা। হাসপাতালের মধ্যেই নাকি চিৎকার করে উঠেছিলেন একদিন, ‘‘রোজমেরি, খোদার দোহাই, ছুরিটা ফেলে দাও!’’ পরে লিখেছিলেন, ‘সারা জীবন সহকর্মীদের প্রশংসা পাওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ‘রোজমেরি’স বেবি’ যখন পুরস্কার পাওয়া শুরু করল, তখন আর কিছু যায়-আসে না আমার। আমি তখন বাড়িতে। ‘রোজমেরি’স বেবি’র ভয়ে কুঁকড়ে রয়েছি’!
IMG0সাইকো
অ্যালফ্রেড হিচকক এই মুভির পরিচালক। এই মুভির শ্যুটিংয়ের পরের একটি ঘটনা যেটা অলৌকিক না হলেও রীতিমতো ভয়ধরানো! ছবির নায়িকা জ্যানেট লে’র স্ট্যান্ড-ইন হিসেবে কাজ করেছিলেন মায়রা ডেভিস নামে এক নারী। লাইটিংয়ের তদারক করা ছিল তার কাজ। পরে কেনেথ হান্ট নামে একজন খুন করে তাকে, ভুল করে! কেনেথের ইচ্ছে ছিল জ্যানেটের বডি-ডাব্লকে মারার। ভুল করে মেরে বসে স্ট্যান্ড-ইনকে।
IMG1দি ওমেন
আরেক গা-ছমছমে মুভি। তার সঙ্গে আরও একগুচ্ছ ‘অলৌকিক’ ঘটনা। প্রথমেই বলতে হয় জন রিচার্ডসনের গাড়ি দুর্ঘটনার কথা। ‘দি ওমেন’ ছবির স্পেশ্যাল এফেক্টস কনসালট্যান্ট ছিলেন রিচার্ডসন। মুভিতে যে মৃত্যুদৃশ্যগুলো দেখলে গা শিরশিরিয়ে উঠে, সেগুলো নিখুঁতভাবে তৈরি করেছিলেন তিনিই। দামও দিতে হয়েছিল তার জন্য। পরের ছবি ‘আ ব্রিজ টু ফার’ যখন তৈরি হচ্ছে, সেই সময় এক গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন রিচার্ডসন এবং তার বান্ধবী তথা সহকারী লিজ মুর। রিচার্ডসন বেঁচে গেলেও লিজ বাঁচেননি। এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে অদ্ভুত সাদৃশ্য ছিল ‘দি ওমেন’ মুভির কিথ জেনিংসের চরিত্রটির মৃত্যুদৃশ্যের। জ্যান ফেরার পরে রিচার্ডসন প্রথম কী দেখতে পেয়েছিলেন জানেন? একটা মাইলফলক, যাতে লেখা— ওমেন, ৬৬.৬ কিলোমিটার। নেদারল্যান্ডসের ওমেন এলাকা থেকে সে সময় ৬৬.৬ কিলোমিটার দূরে ছিলেন তাঁরা! তা ছাড়াও ছবির একাধিক নির্মাতা-কলাকুশলীর প্লেনে বাজ পড়েছিল। এমনকী, অভিনেতা গ্রেগরি পেক একটা ফ্লাইট বাতিল করে দিয়েছিলেন। পরে সেই প্লেন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। একজনও বাঁচেনি!
IMG2পোল্টারজিস্ট
মুভিটির শ্যুটিংয়ের সময় অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটেছিল। রবার্ট ফ্রিলিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অলিভার রবিন্স। তখন তার বয়স কম। এক ক্লাউন-পুতুলের সঙ্গে একটা দৃশ্য ছিল অলিভারের। পুতুলটার হাত সামনের দিকে বাড়ানো ছিল। কোনওভাবে সেটা জড়িয়ে গিয়েছিল অলিভারের গলায়! দম আটকে তার প্রায় যায়-যায় অবস্থা! প্রযোজক স্টিভেন স্পিলবার্গ ব্যাপারটা দেখতে পেয়ে তাড়াতাড়ি এসে অলিভারকে বাচান। পরে এক সাক্ষাৎকারে অলিভার বলেছিলেন, ‘‘তা না হলে কী হতো, কে জানে... হয়তো আমি এখন এখানে থাকতাম না!’’
দি এগজরসিস্ট
উইলিয়াম ব্ল্যাটির লেখা একই নামের উপন্যাস থেকে মুভিটি বানিয়েছিলেন উইলিয়াম ফ্রেডকিন। ভয়ের মুভির ইতিহাসে কাল্ট ক্লাসিক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে এটি। অনেকেই মনে করতেন, মুভিটি অভিশপ্ত। কারণও রয়েছে তার। গোটা শ্যুটিং জুড়ে নানা অস্বাভাবিক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলেন ছবির কলাকুশলী। মারাত্মক হয়েছিল আগুন লাগার ব্যাপারটা। রেগানের ( মুভিতে যে চরিত্রটিকে পজেস্ড হিসেবে দেখানো হয়) বাড়ির সেট’টা পুড়ে গিয়েছিল আগুন লেগে। শ্যুটিং মাস দেড়েক পিছিয়ে দেয়া হয় এই দুর্ঘটনার জন্য। অদ্ভুত ব্যাপার হল, আগুনটা কীভাবে লেগেছিল, কেউ বুঝতে পারেননি। অনেকের মনে হয়েছিল, পায়রা জাতীয় কোনো পাখি সার্কিট বক্সে ঢুকে যাওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু গল্পে মোচড় অন্য জায়গায়। গোটা বাড়ির সেট’টা পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু রেগানের ঘর হিসেবে যেটাকে দেখানো হচ্ছিল, সেই ঘরটার কিচ্ছু হয়নি!
ইত্তেফাক/সালেহ্