‘‘হাহাহা ভাই, এইটা ঠিক কইছেন। কিন্তু ইদানিং সুন্দর মেয়েরা স্টুডিওতে আসছে না। ঘটনা কী? এলাকার সব সুন্দর মেয়ের কী বিয়ে হয়ে গেলো নাকি?
এলাকার সব মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেলে তুমি কী এখানে থাকতে পারবে?
আমি তো জানবো না কিছু ভাই।
তোমার জানতে হবেনা, প্রকৃতিই তোমাকে জানিয়ে দেবে।
হাহাহা। এইটাও ভালো বলেছেন। সুন্দরী মেয়েরা চলে গেলে যে দুঃখ হয়, তা অনেক বড় দুঃখের চেয়েও তীব্র। আগে এলাকায় কোনও বাড়িতে প্যান্ডেল টানালেই মন খারাপ হয়ে যেতো। না চিনলেও মনে হতো, সেও চলে গেলো?
মিনহাজ প্রচণ্ড শব্দে হেসে ওঠে। বলে, প্রেমিকপুরুষদের তালিকায় তুমি রোমিওদের কয়েকজনের পরেই হবে।
আবদুল্লাহ মিনহাজের দিকে তাকিয়ে হাসে, ভাই দোয়া করবেন। তাদেরকে ছাড়িয়ে যাতে এক নম্বরে চলে আসতে পারি...’’
ওপরের কথাগুলো একজন শিল্পী স্টুডিও নির্মাতার, স্টুডিওর ভেতরে থাকা মানুষের অভিব্যক্তি। হ্যাঁ, স্টুডিওটির মালিক উনি নন-তবে স্রষ্টা। তার হাত দিয়েই শিল্পী স্টুডিওর হাসি কান্না, নাগরিক জীবন, প্রেম-ভালবাসা আবেগের সন্নিবেশ ঘটেছে। এই নির্মাতার নাম ইশতিয়াক আহমেদ। কথাসাহিত্যিক, গীতিকার আর একজন সাংবাদিক।
লেখক-লেখা হিসেবে ইশতিয়াক আহমেদ’কে ভক্তকুলের অনেকে বলেন তিনি এ সময়ের হুমায়ূন আহমেদ, কেউ বলেন গরীবের হুমায়ূন। যদিও এই দাবির ঘোর প্রতিবাদী মানুষ তিনি। তার ভাষায়, ‘আমি ইশতিয়াক-ইশতিয়াকই, আমার এটাই পরিচয়, এই পরিচয়েই ভালবাসি। গল্প বলতে ভালবাসি, আর এই বলতে চাওয়া গল্পই আমার লেখার খোরাক।’
এবার আসা যাক একুশে বইমেলা আর মেলায় আসা ইশতিয়াক আহমেদের এবারের বই ‘শিল্পী স্টুডিও’ নিয়ে। ইশতিয়াকের মতে, ‘আমার প্রতি বছর একটি করে বই প্রকাশ পায়। মানে আমি লিখতে পারি সর্বসাকুল্যে একটি। এবারও সেরকমই।’
মানুষ এবং তার বিচিত্র জীবনকে উপজীব্য করে রচিত উপন্যাসটি প্রকাশ করেছে দেশ পাবলিকেশন্স। প্রচ্ছদ করেছেন, ধ্রুব এষ। পাওয়া যাচ্ছে মেলার ৫০২-৫০৩ নম্বর স্টলে।
ইশতিয়াক আহমেদের প্রথম বই প্রকাশ হয় ২০০৯ সালে। নাম ছিল ‘হোটেল বনলতা আবাসিক’। এরপর ডেথ সার্টিফিকেট, মাফলার, নেইলকার্টার, আপেল শাস্ত্র, আদর্শ লিপি, সিনেমা হলের গলিসহ প্রকাশ হয়েছে মোট ১০টি বই। বেসরকারি এনজিও থেকে প্রকাশিত হয়েছে আরও দু’টি ছড়ার বই ‘ফুঁ’ এবং ‘আটটি মাছির টিম’। তারও আগে ‘ইশতিয়াক আহমেদ এবং তার ভাইব্রাদারদের গল্প’ ও ‘স্বপ্ন আর ভালোবাসার ক্যাডারদের কবিতা’ নামে দু’টি বই বের হয়।
‘শিল্পী স্টুডিও’ নিয়ে ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘আমি আমার মতো লিখেছি। পাঠক এটাকে গ্রহণও করতে পারেন। প্রত্যাখ্যানও করতে পারেন। তবে আমি জীবনকে যেভাবে দেখেছি সেটাকে প্রক্রিয়াজাত করে গল্পের মতো করে দেখানোর চেষ্টা করেছি।’
ইত্তেফাক/আনিসুর