রাজশাহী নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রধান হিসাবরক্ষক ছাত্রীদের পরিবহনের জন্য বরাদ্দ ৩২ সিটের বিশাল কোস্টার গাড়িটি নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের ওই গাড়ি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) অধিভুক্ত কলেজের পরীক্ষা, ব্যক্তিগত ভ্রমণ ও বহিরাগত ব্যক্তিদের পরিবহনের কাজেও ব্যবহূত হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এর ফলে ছাত্রীদের রিকশা ও প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে চলাচল করতে হচ্ছে, খরচ করতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এতে ছাত্রীদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অধ্যক্ষ শেফালী খাতুন ও হিসাবরক্ষক গোলাম মোস্তফার রোষানলে পড়ার ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পান না।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ অধ্যক্ষ শেফালী খাতুন সেই কোস্টার গাড়িটি নিয়ে রংপুরে যান। প্রয়োজন ছাড়াই তার সফরসঙ্গী হন কলেজের হিসাবরক্ষক গোলাম মোস্তফা। এছাড়া অধ্যক্ষের সঙ্গে রংপুরের বিভিন্ন নার্সিং কলেজে পরীক্ষা নিতে যান সাবেক অধ্যক্ষ মনিজ্জা খাতুন, নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর মাহফুজা খানম ও রামেবির ডিন অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক। সূত্র মতে, অধ্যক্ষ সেখান থেকে তিনদিন পর ২১ মার্চ রাতে রাজশাহী ফেরেন। নার্সিং কলেজের ছাত্রীদের গাড়ি ব্যবহার করলেও উল্লেখিত ব্যক্তিরা রাবি ও রামেবিতে মোটা অংকের টিএ-ডিএ বিল জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও রামেবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্র জানায়, রাবি ও রামেবির নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানিসহ টিএ/ডিএ পান। এছাড়া শিক্ষার্থী প্রতি আনুতোষিকও পান। তারপরও অধ্যক্ষ ব্যক্তিগত কাজের জন্য ছাত্রীদের পরিবহনের বিশালাকৃতির একমাত্র গাড়িটিই ব্যবহার করেন। হিসাবরক্ষক গোলাম মোস্তফা পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে যুক্ত না থাকলেও অজ্ঞাত কারণে অধ্যক্ষের সফরসঙ্গী হন বলে জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১লা মার্চ রাজশাহী নার্সিং কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পিকনিকে রংপুর ভিন্নজগতে যান। এ জন্য ৫২ সিটের চারটি বাস ভাড়া করা হয়। ওই বাসেই অধ্যক্ষ ও শিক্ষকের জন্য আসন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু অধ্যক্ষ ও হিসাবরক্ষক ছাত্রী ও শিক্ষকদের সাথে ভাড়া বাসে না গিয়ে শিক্ষার্থীদের কোস্টার গাড়িটি নিয়ে ওই পিকনিকে যান। কোস্টারে তাদের সঙ্গে সাবেক অধ্যক্ষ ও কয়েকজন বহিরাগতও ছিলেন বলে জানা যায়। সূত্র জানায়, অধ্যক্ষ শেফালী খাতুন গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার টিএমএসএস নার্সিং কলেজে রামেবির পরীক্ষা নিতে যান। সেখানেও তিনি নার্সিং কলেজের ছাত্রীদের পরিবহনের কোস্টার গাড়ি নিয়ে যান। বরাবরের মতো পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজে সংশ্লিষ্ট না হলেও হিসাবরক্ষক গোলাম মোস্তফা কোস্টারে অধ্যক্ষের সফরসঙ্গী হন। শুধু তাই নয়, কোস্টার গাড়িটি অধ্যক্ষ বাসা, অফিস, বাজারে যাওয়াসহ ব্যক্তিগত সকল কাজে ব্যবহার করেন। হিসাবরক্ষকের ছেলেকে স্কুলে ও খেলার মাঠে আনা-নেওয়াও করা হয় ওই কোস্টার গাড়িতেই।
যোগাযোগ করা হলে অধ্যক্ষ শেফালী খাতুন পরীক্ষা ও ব্যক্তিগত কাজে ছাত্রীদের কোস্টার গাড়িটি ব্যবহারের সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, এখন থেকে তিনি আর ওই গাড়ি ব্যবহার করবেন না। তবে কলেজ ও বাসায় যাতায়াতের জন্য আগের অধ্যক্ষগণ ওই গাড়িটি ব্যবহার করেছেন, এজন্য তিনিও এটি ব্যবহার করতে পারেন বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ শেফালী খাতুন।