সিলেট নগরীর মেন্দিবাগ এলাকায় পরিবহন শ্রমিককে গ্রেফতারের জের ধরে পুলিশের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। আহত কয়েকজন শ্রমিককে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের পিকআপ ভ্যানসহ তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাত ১১ টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় শ্রমিকরা উপশহর এলাকার কাঁচাবাজারের নিক এলোপাথাড়ি ট্রাক,পিক সহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে রেখেছে। ফলে ঐ এলাকা দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। অন্যদিকে কয়েকশত পুলিশ এলাকায় কড়া অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে আজ শনিবার থেকে পরিবহন শ্রমিকরা সিলেটে অনির্দিষ্ট কালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে। রাতে সিলেট আওয়ামী লীগের মহানগর সভাপতি সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন কামরানসহ এসএমপি পুলিশের সাথে বৈঠক চলছে।
সূত্র জানায় শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হোটেল রোজ ভিউ‘র সামনে শফিক ও স্বপন নামের দু‘জন মাইক্রোবাস শ্রমিককে মাদকসহ আটক করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় ঐ দুই শ্রমিককে ছিনিয়ে নিতে চাইলে শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এক পর্যায়ে রাতে উপশহর পয়েন্ট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে রাখে পরিবহন শ্রমিকরা। তখন পুলিশ সদস্যরা সেখানে এসে অবরোধ তুলে নেয়ার কথা বললেও তারা পুলিশের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ এবং কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় পুলিশসহ আহত হন অন্তত সাতজন।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ও মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকন উদ্দিন। তারা শ্রমিক নেতাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাত পৌনে এগারটা থেকে আবারো সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। আটক শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। ফলে সিলেট-ঢাকা সড়কের সিলেটের চণ্ডিপুল থেকে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা কদমতলী, উপশহরের মুখ পর্যন্ত যানজট লেগেছে। ঐ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পুলিশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে শনিবার সকাল ৬টা থেকে সিলেট জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে জেলা মাইক্রোবাস শ্রমিক নেতারা। ডিবি পুলিশের হাতে আটক তিন শ্রমিকের মুক্তির দাবিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সিলেট জেলা মাইক্রোবাস সমিতির সভাপতি শাহ রিপন আহমদ জানান, শুক্রবার রাতে আমাদের তিন শ্রমিককে ডিবি পুলিশ আটক করে। পরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করলে পুলিশ আমাদের মারধর করে আহত করে। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যানও নিয়ে যায়। আমরা আটককৃতদের মুক্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
রাত পৌনে এগারটা থেকে আবারো সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। রাস্তায় টায়ার পুড়িয়ে অবস্থানের ফলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ইত্তেফাক/রাফাত