‘বিএনপি নেতারা এখন নিজেরাই নিজেদের শত্রু’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়কে বিরোধীরা ভয় পায়। বিএনপির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বিএনপি আন্দোলনে নেই। ৫৭৬ জনের কমিটির বিএনপি নেতাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। আন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির নেতারা বলেন, আন্দোলন হবে রোজার ঈদের পরে, তারপর বলেন, কোরবানীর ঈদের পরে, তারপর বলেন, পরীক্ষার পর। এইভাবে আন্দোলনের কথা বলে সময় পার করেন। আসলে আন্দোলন কাকে বলে বিএনপির নেতারা জানেনই না। বিএনপি এখন একটি মরা গাঙ। মরা গাঙে কখনো জোয়ার আসে? আসে না। বিএনপি এখন বাংলাদেশ নালিশ পার্টি। বিএনপি উন্নয়নে নাই, ইতিহাসে নাই, আন্দোলনেও নাই। 
 
ওবায়দুল কাদের বলেন, নালিশ পার্টির নেতারা উপরে বসে রূপকথার কাহিনী শোনান, মিথ্যা ষড়যন্ত্রের গল্পের ফুলঝুড়ি শোনান। বিএনপি নেতারা এখন নিজেরাই নিজেদের শত্রু। তারা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন, মারামারি করেন, আবার নালিশও করেন। সবমিলিয়ে দল হিসেবে বিএনপি এখন এলোমেলো। 
 
আজ শনিবার দুপুরে রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত বিশাল কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 
 
‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দেশরত্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হউন’ শীর্ষক শ্লোগানে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আয়োজিত এই কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। 
 
সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি যত দুর্বলই হোক, তাদের সমর্থন কিন্তু দুর্বল নয়। তাই ভোটের রাজনীতিতে বিএনপিকে তুচ্ছ করে দেখার উপায় নেই। তাদের কখনো দুর্বল ভাববেন না, দুর্বল ভেবে আত্মসন্তুষ্টিতে থাকলে চলবে না। ১৯৯১ সালে আমরা ভোটের আগেই জিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু নির্বাচনে তা হয়নি। 
আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবাইকে অনুরোধ করছি, আগামী নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিন। এখন আমরা ক্ষমতায় আছি। আগামীতে নাও থাকতে পারি। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ চিরস্থায়ী। কাজেই দলের মধ্যে ভাঙন নয়। আমরা যদি আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই, তাহলে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ করতে হবে। শেখ হাসিনার কাছে জবাবদিহি করতে হবে। 
 
ইত্তেফাক/মাহমুদুল ইসলাম