২০১৮’র ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন

 ‘আগামী বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে’ মন্তব্য করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দশ্যে বলেছেন, সবাইকে অনুরোধ করছি, নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিন। এখন আমরা ক্ষমতায় আছি। আগামীতে নাও থাকতে পারি। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ চিরস্থায়ী। কাজেই দলের মধ্যে ভাঙন নয়। আমরা যদি আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই, তাহলে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ করতে হবে। শেখ হাসিনার কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দেশরত্ম শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হউন’ শীর্ষক শ্লোগানে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আয়োজিত দলের রাজশাহী বিভাগীয় এক বিশাল কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়কে বিএনপি ভয় পায়। কারণ জয় হচ্ছেন তরুণ প্রজন্মের আগুন। এই আগুন হচ্ছে মেধার আগুন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ বিএনপি আন্দোলনে নেই। ৫৯৩ জনের কমিটির বিএনপি নেতাদের কোনো পরিকল্পনাও নেই। তারা ক’দিন পর পর বলে আন্দোলন করবো, কিন্তু করে না। আসলে আন্দোলন কাকে বলে বিএনপির নেতারা জানেনই না। বিএনপি এখন একটি মরা গাঙ। মরা গাঙে কখনো জোয়ার আসে না। বিএনপি এখন বাংলাদেশ নালিশ পার্টি।

তবে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপি যত দুর্বলই হোক, তাদের সমর্থন কিন্তু দুর্বল নয়। তাই ভোটের রাজনীতিতে বিএনপিকে তুচ্ছ করে, ছোট করে দেখার উপায় নেই। তাদের দুর্বল ভেবে আত্মতুষ্টিতে থাকলে চলবে না। তাহলে পরিস্থিতি ৯১-এর নির্বাচনের মতো হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী বছরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী হতে হবে। তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়নে কোনো ঘাটতি নেই, ঘাটতি আছে নেতাদের আচরণে। আচরণটা শুদ্ধ করতে হবে। মানুষের চোখের ভাষা, মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করেন। এখন ক্ষমতায় আছেন, কেউ কিছু বলছে না। আচরণ খারাপ হলে মানুষ ব্যালটে শাস্তি দিয়ে দিবে।

দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, কর্মীবান্ধব নেতা হোউন। কর্মীদের মূল্যায়ন করুন। অনুপ্রবেশকারী বসন্তের কোকিলদের দলে ঠাঁই দেবেন না। এসময় রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীকে উদ্দেশ্যে সেতুমন্ত্রী বলেন, ত্যাগী কর্মীদের নিয়ে কমিটি করবেন। পরগাছাদের নিয়ে পকেট কমিটি করবেন না।

দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মেধাবী ও সত্ লোকদের রাজনীতিতে আসার আহবান জানান তিনি। মন্ত্রী রাজশাহীর প্রশংসা করে বলেন, বর্তমানে রাজশাহী ঢাকা ছাড়িয়ে বিশ্বের দরবারে পৌছে গেছে, কারণ রাজশাহী দুষণমুক্ত নগরী।

রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এই কর্মী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পরিচালনায় সভায় দলের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য প্রফেসর আবদুল খালেক, রাজশাহী মহানগর সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রাজশাহী জেলার সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দীন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডুসহ বিভাগের আট জেলার সভাপতিগণ বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সংসদ সদস্য যথাক্রমে আবদুল ওয়াদুদ দারা, ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, আয়েন উদ্দিন, আখতার জাহান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে কর্মী সমাবেশে যোগ দেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ওবায়দুল কাদের দলীয় পতাকা উত্তোলন ও পায়রা উড়িয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু ও পরে  উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

‘বিএনপি হলো মেরুদন্ডহীন নালিশ পাটি’

নাটোর প্রতিনিধি জানান, আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপি হলো মেরুদন্ডহীন নালিশ পাটি, এদের বিষয়ে যত কম কথা বলা যায় ততই ভাল। ওদের একটা মিছিল করার ক্ষমতা নেই। ঘরে বসে বসে শুধু বিদেশিদের কাছে নালিশ করে। এদের মরা গাঙ্গে আর জোয়ার আসবে না। শুধু আন্দোলনের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। গত আট বছরে একটাই আন্দোলন দেখা গেছে সেটা হলো বোমাবাজী। বিএনপি নির্বাচনে না এসে আবার বোমাবাজী করলে জনগণ তা প্রতিহত করবে। শনিবার বিকেলে নাটোর কানাইখালি পুরাতন বাস টার্মিনালে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক প্রতিমন্তী অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপির সভাপতিত্বে সদরের এমপি ও জেলা সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুলের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। এ ছাড়াও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ এমপি, সিরাজগঞ্জের মহিলা এমপি সেলিনা পারভীন ও নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী জলিসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর এমপি ইসরাফিল আলম, সিরাজগঞ্জ-৩ এর এমপি আমজাদ হোসেন মিলন ও নাটোর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাজেদুর রহমান খান।

ইত্তেফাক/নূহু