পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, এক সময়ে আমাদের দেশের উন্নয়নের জন্য অন্য দেশের সাহায্য-অনুদানের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এখন নিজেদের অর্থে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। উন্নয়ন এখন বিদেশি সাহায্য অনুদানের ওপর নির্ভরশীল নয়। গতকাল রবিবার পরিবেশ অধিদফতরের কেন্দ্রীয় গবেষণাগার উদ্বোধন, সাউন্ড লেভেল মিটার বিতরণ, এনবিস্যাপ ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এবং মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুরুল করিম। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: রইছউল মণ্ডল।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কপ-২১, কপ-২২ সম্মেলনে আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। ১৯৬টি দেশ একমত হয়েছিলাম— পরিবেশ যেভাবে দূষিত হচ্ছে, জীব, প্রাণি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা কোনো না কোনোভাবে আমাদের কমিয়ে আনতে হবে। তবে যেটা উদ্বেগের বিষয় পৃথিবী যেভাবে উষ্ণ হচ্ছে যার ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ার দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে পানির লবণাক্ততা বেড়ে গেছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বর্তমানে পরিবেশ সম্পর্কে যে অষ্পষ্টতা তা দূর হবে।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবী অধিকাংশ দেশ কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শুরু করেছে। আগে বন্যা, অতিবৃষ্টি বলতে বাংলাদেশকেই বোঝাতো। এখন ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঞ্চল অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। তবে আমাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে উষ্ণতা তেমন সমস্যা নয়।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, বিষয়গুলো উপলব্ধি করেই প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে একটি ফান্ড গঠন করা হয়েছে। যে ফান্ডের মাধ্যমে আমরা ছোটখাটো কাজ করি। প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী প্রতি বছর শত বিলিয়ন ডলার আসার কথা। এই চুক্তির আগে থেকেই আমরা জেনেছি, যে আর্থিক সহায়তা আমরা পেয়ে আসছিলাম তাও ঠিকমতো আসছে না, প্রকল্প ইতিমধ্যে তার গতি হারিয়েছে।
পরিবেশ ঐতিহ্য রক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদফতরে ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে তা আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
শব্দ দূষণ কমাতে পরিবেশ অধিদফতরের ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, হাইড্রোলিক হর্ন নেই বললেই চলে। মন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, হাইড্রোলিক হর্ন কেন ব্যবহার হয়, এটা আমাদের জানতে হবে। রাস্তাঘাট তৈরি হচ্ছে। রোড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসপেক্ট নেই, যেটা উন্নত দেশে আছে। পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেই তাদের কাজ করতে হচ্ছে।
উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, পুরো বিশ্ব পরিবেশ রক্ষায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। আমরাও উন্নত যন্ত্রপাতি আমাদানি করেছি। আমরা যে শুরু করেছি, এটা আনন্দের বিষয়। আমাদের স্মরণ রাখতে হবে প্রকৃতির লীলাভূমি এ দেশ জীববৈচিত্র্যের দিক দিয়ে সমৃদ্ধ। এগুলো আমাদের রক্ষা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার এবং শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচির ওপর উপস্থাপনা করেন অধিদফতরের পরিচালক ফরিদ আহমেদ।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচির আওতায় সংগৃহীত দুইশটি সাইন্ড লেভেল মিটার বিতরণ করেন এবং এনবিস্যাপ ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ক প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন।
পরে মন্ত্রী ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্থাপিত জিএমও ডিটেকশন সুবিধা সংবলিত কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের নামফলক উন্মোচন করেন এবং ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন।
ইত্তেফাক/নূহু