প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি পাকিস্তানিদের ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। কিছুদিন আগে তারা একটি বই প্রকাশ করে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করেছে। আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে পাকিস্তানিদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন। বাঙালি জাতির বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত মহান অর্জনগুলোকে ভবিষ্যতে কেউ যেন নস্যাত্ করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল সোমবার সকালে চলতি বছরের একুশে পদকপ্রাপ্তদের মাঝে একুশে পদক বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালের একুশে পদক বিজয়ী ১৭ জনের হাতে একুশে পদক তুলে দেন। ভাষা আন্দোলন, শিল্পকলা (সঙ্গীত, চলচ্চিত্র, ভাস্কর্য, নাটক ও নৃত্য), সাংবাদিকতা, গবেষণা, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজসেবা, ভাষা ও সাহিত্যে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। পুরস্কার হিসেবে একটি সনদপত্র, স্বর্ণপদক এবং দুই লাখ টাকার চেক বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
সাম্প্রতিককালে একাত্তরের ২৫ মার্চ গণহত্যা নিয়ে মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করে পাকিস্তানের জনৈক জুনায়েদ আহমেদের বই প্রকাশ এবং সেই বই বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠানোর ধৃষ্টতার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছুদিন আগে তারা একটি পুস্তক বের করে তাতে উল্লেখ করেছে- ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী যে গণহত্যা শুরু করেছিল, যাতে এদেশীয় আলবদর, আল শামস, রাজাকাররা যোগ দিয়েছিল। সে সব গণহত্যার ছবিতে মিথ্যা ক্যাপশন এঁটে দিয়ে এসব হত্যাকাণ্ড মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠন করেছে বলে তারা প্রচারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এখন যে অপপ্রচার তারা করে যাচ্ছে, তা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য না। কাজেই ২৫ মার্চকে আমাদের গণহত্যা দিবস হিসেবে গ্রহণ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিকভাবেও এর স্বীকৃতির জন্য আমাদের প্রচার চালাতে হবে। এ ব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কিছুদিন আগে বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ লোক শহীদ হয় নাই। তার এ ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে পাকিস্তানের এ ধরনের অপপ্রচারের কোনো সূত্র আছে কি না, তা আমাদের খুঁজে দেখতে হবে। তারা উভয়েই একই সুরে কথা বলেছেন। এ যেন শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি এবং শহীদদের অবমাননা করা ছাড়া আর কিছুই না।’
একুশে পদক বিজয়ীরা হলেন- ‘অপরাজেয় বাংলার’ ভাস্কর সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ, প্রযুক্তিবিদ, গবেষক অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং দৈনিক জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়, অধ্যাপক ড. শরিফা খাতুন, শিল্পকলায় (সঙ্গীত) সুষমা দাস, ওস্তাদ আজিজুল ইসলাম (বংশীবাদক, শাস্ত্রীয় সঙ্গীত), জুলহাস উদ্দিন আহমেদ (স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী), শিল্পকলায় (চলচ্চিত্র) তানভীর মোকাম্মেল (লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা), শিল্পকলায় (নাট্যশিল্পী) সারা যাকের, গবেষণায় সৈয়দ আকরম হোসেন, শিক্ষায় প্রফেসর ইমেরিটাস আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও লেখক), সাংবাদিকতায় আবুল মোমেন, সমাজসেবায় অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান (আইপিজিএমআর’কে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী), ভাষা ও সাহিত্যে সুকুমার বড়ুয়া (ছড়াকার), শিল্পকলায় (নৃত্য) শামীম আরা নীপা এবং শিল্পকলায় (সংগীত) রহমতউল্লাহ আল মাহমুদ সেলিম ওরফে মাহমুদ সেলিম (গণসঙ্গীত শিল্পী, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডসহ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতিবাদকারী) এবং ভাষা ও সাহিত্যে (মরণোত্তর) কবি ওমর আলী। বিজয়ী সকলেই প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক গ্রহণ করেন। মরণোত্তর কবি ওমর আলীর পক্ষে তার ছেলে মো. রফি মনোয়ার আলী প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পদক গ্রহণ করেন।
ইত্তেফাক/নূহু