আজ একুশেতে দ্বার উন্মোচন সকালে

মানুষের ঢল শুরু হয়ে গিয়েছিল গতকাল সোমবার থেকে বইমেলায় বিরাজ করছিল একুশের আবহ। শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দল বেঁধে সাদাকালো পোশাকে এসেছিল বইপ্রেমীরা, গালে, কপালে বর্ণমালা, শহীদ মিনার এঁকে। আজ শুক্রবার সকাল থেকে শহিদবেদিতে ফুল দিয়ে সবাই আসবেন বইমেলায়। আজ একুশে ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হবে সকাল আটটায়। সাড়ে সাতটায় বাংলা একাডেমির মূলমঞ্চে শুরু হবে একুশে স্মরণে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। সারাদেশের কবিরা অংশ নিয়ে থাকেন এ আসরে। সভাপতিত্ব      করবেন কবি মোহাম্মদ সাদিক।

ভাষা আন্দোলনের বই

মেলার ২০তম দিন পর্যন্ত ২ হাজার ৪৮৪টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এত বইয়ের ভিড়ে ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা মাত্র ৯টি। ভাষা সংগ্রামী ও লেখক আহমদ রফিক বলেন, লেখকরা কম লিখছে। একুশ নিয়ে গভীর মমত্ববোধ নেই বলেই প্রকাশনার দিকে ভাষা আন্দোলন পিছিয়ে রয়েছে। এবারের মেলায় ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রকাশিত বইগুলো হলো- আনিসুজ্জামানের সম্পাদনায় ‘প্রথম শহিদ মিনার ও পিয়ারু সরদার’ (বাংলা একাডেমি), আহমদ রফিকের ‘ভাষা-আন্দোলনে ইতিহাস বিকৃতি : তমদ্দুন মজলিস ও কমিউনিস্ট পার্টি’ (বিপ্লবীদের কথা), শেখ রফিক ও লাবণী মণ্ডলের সম্পাদনায় ২১ (প্রথম খণ্ড) (বিপ্লবীদের কথা), এম আর মাহবুবের ‘একুশের স্মারক’ (নালন্দা), হাসান হাফিজের সম্পাদনায় ‘আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারি’ (অনন্যা), ড. রফিকুল ইসলামের ‘একুশের শহীদেরা বাংলা ভাষার শহীদেরা’ (ময়ূরপঙ্খী), এ কে এম শাহনাওয়াজের ‘ভাষা আন্দোলন : পরিপ্রেক্ষিত ও ইতিহাস’ (অবসর), তাজুল মোহাম্মদের ‘ভাষা-সংগ্রামীদের কথা : বৃহত্তর সিলেট’ (সাহিত্য প্রকাশ), আবুল মোমেনের ‘ভাষা আন্দোলনের কথা’ (শিশু একাডেমি)।

মোড়ক উন্মোচন

জার্নিম্যান বুক্স প্রকাশিত কবি মুহাম্মদ সামাদের ‘সাত দেশের কবিতা’ বইটির মোড়ক উন্মোচন হয়েছে গতকাল। বইটিতে চীন, জার্জিয়া, ভিয়েতনাম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সার্বিয়া ও সুইডেনের ১০ জন কবির ১০১টি কবিতা অনুবাদ রয়েছে।

অনলাইনে হুমায়ূন আহমেদের বই

ই-বইয়ের স্টলে গতকাল উদ্বোধন করা হয়েছে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘লীলাবতি’ বইয়ের ই-ভার্সন। উদ্বোধন করেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। সঙ্গে ছিল দুই ছেলে নিশাদ ও নিনিত।

নতুন বই

গতকাল ৯৪টি বই এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে— সরকার আমিনের ‘প্রথম রাতের উপাসনা’ (চৈতন্য), পলাশ মাহবুবের ‘সূর্যমুখীরা দুই বোন’ (অন্যপ্রকাশ), পূরবী বসুর ‘শামসুদ্দিন আবুল কালামের অপ্রকাশিত চিঠি ও স্মৃতি’ (অন্যপ্রকাশ), সেলিনা হোসেনের ‘মুক্তিযুদ্ধের কিশোর গল্প’ (পাঠশালা), সুব্রত বড়ুয়ার ‘গুণীজন’ (অনুপম), সৈয়দ শামসুল হকের ‘মুক্তিযুদ্ধের নাটকসমগ্র’ (স্টুডেন্ট ওয়েজ), ইমদাদুল হক মিলনের ‘বানরের রাজ্যে অজগর’ (পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স), রফিকুল ইসলাম রতনের ‘আমার দেখা আমার লেখা’ (লেখা প্রকাশ)।

মূলমঞ্চের আয়োজন

গতকাল বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘উন্নতমানের শিক্ষা : সামাজিক অগ্রগতির চাবিকাঠি’ আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হারুন-অর-রশিদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী। সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনতার প্রায় অর্ধশতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। সাক্ষরতার দিক দিয়ে আমরা অনেকটা অগ্রগতি অর্জন করলেও সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা যায়নি। তদুপরি তিন ধারার শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষায় বাণিজ্যিক তত্পরতা এবং সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির অনুপ্রবেশ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে হুমকির সম্মুখীন করেছে। এ বিষয়ে আশু ইতিবাচক পদক্ষেপ করা না গেলে প্রকৃত শিক্ষিত জাতি গঠনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।’

আজকের অনুষ্ঠান

আজ বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘ধর্মীয় বহুত্ববাদ : বাঙালি গৌরবময় উত্তরাধিকার’ শীর্ষক বক্তৃতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. আবদুল মমিন চৌধুরী।

ইত্তেফাক/নূহু