গাজীপুরের কালীগঞ্জের দুবার্টি এমইউ কামিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষকদের উত্তরপত্র লিখে দেওয়ার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রতি পরীক্ষায় বাইরে থেকে উত্তরপত্র লিখে পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হচ্ছিল। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কালীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান গতকাল সোমবার দুপুরে কেন্দ্রের হল সুপারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে উপজেলার ২৯টি মাদ্রাসা থেকে ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রতিদিন দুর্বাটি মাদ্রাসার লাইব্রেরিয়ান, কেন্দ্র সংলগ্ন দুর্বাটি দারুচ্ছুন্নাত্ এতিমখানার সুপারিনটেনডেন্ট মো. নজরুল ইসলাম এবং কেন্দ্রের হল সুপার উপজেলার মূলগাঁও দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. রফিকুল ইসলাম বাইরে থেকে উত্তরপত্র লিখে পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করতেন। এর সঙ্গে শিক্ষকদের একটি চক্রও জড়িত।
গত ১৩ ফেরুয়ারি আরবি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় এ কাজ হয়। স্থানীয়রা টের পেয়ে মোবাইল ফোনে ওই দৃশ্য ধারণ করে। এর ভিডিও চিত্র ধারণ করার সময় টের পেয়ে শিক্ষকরা দৌড়ে পালায়। ভাঙা জানালা দিয়ে পালাতে গিয়ে সালাউদ্দিন ও জাকির নামের দুই শিক্ষক আহত অবস্থায় আটক হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মূলগাঁও দাখিল মাদ্রাসার মো. বেলায়েত হোসেন, ফুলদী মাদ্রাসার মো. বিল্লাল হোসেন, চুপাইর মাদরাসার মো. সালাউদ্দিন, সোলাইমান হোসেন, আইয়ুবুর রহমান, কামরুন নাহার, সারোয়ার হোসেন, জামালপুর মাদ্রাসার আবদুল করিম, আরিফ হোসেন, বাঘুন মাদ্রাসার আতাউর রহমান, সাইলদিয়া মাদ্রাসার ছিদ্দিকুর রহমান, সাওরাইদ মাদরাসার হারুন-অর-রশিদ, জাঙ্গালীয়া সিদ্দিক মিয়া ফাজিল মাদ্রাসার মো. আব্দুল জলিল, মো. জাকির হোসেন, দুর্বাটি মাদ্রাসার মো. ইসমাইল হোসেন, ছাতিয়ানী মাদ্রাসার নূর মোহাম্মদ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা কেউ মাদ্রাসার সুপার, কেউ সহকারী শিক্ষক। আবার কেউ ছুটিতে থেকেও ঘটনাস্থলে ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান জানান, ওই ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হল সুপারকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু