যশোরের চৌগাছায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ বেদীতে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের বিবাদমান দুই কমিটির মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় চৌগাছা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতিকে লাঞ্চিত করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলী দেয়ার পরপরই চৌগাছা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাইক নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলী দেয়ার ঘোষণা দেন। এর পরপরই ছাত্রলীগের ইব্রাহিম-শফিকুজ্জামান কমিটির নেতারা ফুলের তোড়া দিয়ে শহীদ বেদী দখল করে রাখে। এসময় ছাত্রলীগের সুমন সরকার-শামীম রেজা কমিটি ফুল দেয়ার সময় ইব্রাহিম-শফিকুজ্জামান গ্রুপ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ সময় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক চৌগাছা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি শাহানূর আলম উজ্জলের নাম ধরে কেউ একজন বলে উঠে ‘সাংবাদিক উজ্জলকে ধর’। এরপরই ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ওসি মসিউর রহমান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশীষ মিশ্র জয়, পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুর রহমান বাবুলের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এবং ইব্রাহিম-শফিকুজ্জামান গ্রুপ স্লোগান দিতে দিতে স্থান ত্যাগ করে।
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার সেকেন্ড অফিসার আকিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রলীগের দুই কমিটির দ্বন্দ্বে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নারগিস পারভীন বলেন, ‘আগে পরে ফুল দেয়া নিয়ে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দায়িত্ব না থাকার পরও চৌগাছা সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রটোকল ভেঙ্গে মাইকে ছাত্রলীগের নাম ঘোষণা করায় এ ঘটনা ঘটে।’
উল্লেখ্য দির্ঘদিন যাবৎ চৌগাছা উপজেলায় ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি দুটি কমিটি বিদ্যমান রয়েছে।
ইত্তেফাক/মাহমুদুল ইসলাম