নেতা নির্বাচনে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ভোট, উত্সবের আমেজ

 
১০০ গজ ব্যাসার্ধের বৃত্ত। রশির সীমানায় ঘেরা। মূলফটকেই দুজন নিরাপত্তাকর্মী লাটি হাতে প্রহরায়। ভেতরে শুধু ভোটারদের প্রবেশ। সেখানে পৃথক দুটি লম্বা লাইনে চলছে ভোটগ্রহন। স্কুলড্রেস পড়া তিন শতাধিক ক্ষুদে ভোটার আগুন ঝড়া রোদের তীব্র উত্তাপ উপেক্ষা করে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায়। তাদের ভোটেই নির্বাচিত হবে নেতা।
 
বিদ্যালয় ভবনের দুটি কক্ষের চারটি বুথে চলে ভোট গ্রহন। নির্বাচন পরিচালনায় রাখা হয় নির্বাচন কমিশন, প্রিজাইডিং-পোলিং অফিসার ও এজেন্ট। বিশৃঙ্খলা এড়াতে রয়েছে আনসার, স্বেচ্ছাসেবী ও পুলিশ। না এসব আনুষ্ঠানিকতা ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা বা জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরেই এতো আয়োজন। কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই বিভিন্ন ভূমিকায় এসব দায়িত্ব পালন করে।
 
শনিবার গুরুদাসপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট গ্রহনের চিত্র এটি। এমন উত্সবমূখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ছাত্র সংসদের নির্বাচন। সকাল নয়টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত ভোট গ্রহন চলে।
 
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুদের ভেতর গণতন্ত্রের চর্চাবিকশিত করা, নেতৃত্ব গঠন ও নির্বাচন সর্ম্পকে ধারনা সৃষ্টি করতেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের এ ভোট নেয়া হচ্ছে। নির্বাচিতরাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।
 
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মাঠে ক্ষুদে ছাত্রছাত্রীরা ভোট দেয়ার জন্য লম্বা লাইন ধরেছে। কক্ষের ভেতরে প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং ও পোলিং এজেন্ট ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে ক্লাব-স্কাউটিংয়ের দল। দায়িত্ব পালনকারিরা সকলেই ক্ষুদে শিক্ষার্থী। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ছাত্রদের মধ্যে থেকে একজন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বও পালন করছে। কোন রকম বিশৃংখলা ছাড়াই ভোট গ্রহন শেষ হয়েছে।
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ৩০২ জন ভোটার রয়েছে। তার মধ্যে ছাত্রী ভোটার সংখ্যা ১২৯জন। এরমধ্যে ২১জন সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এদের মধ্যে নির্বাচিত হবে সাতজন। তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে দুইজন করে এবং সংরক্ষিত পদে একজন।
 
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা পঞ্চম শ্রেণির শাফিন আহম্মেদ ও প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা মেহেরুন্নার মীম জানায়, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন কী, কেমন করে হয় তা জানা নেই তাদের। কখনো দেয়া হয়নি। নিজেদের ভোট নিজেরাই গ্রহন করছি। এটা অন্য রকম অনূভূতি। এটা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।
 
গুরুদাসপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মুর্তজা জানান, ভোট গ্রহনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আগে থেকেই নির্দেশনামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের এই ভোটে সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্দীপনা দেখাগেছে।
 
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৯০টি প্রতিষ্ঠানে গত ১৫ নভেম্বর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের ছাত্র সংসদের নির্বাচন শুরু হয়। ইতিমধ্যে ৫০ভাগ বিদ্যালয়ে ভোট গ্রহন শেষ হয়েছে।
 

ইত্তেফাক/মণ্ডল