অভিজিত্, দীপনের কথা কেউ বলে না

দুই বছর আগে আজকের দিনে এই ২৬ ফেব্রুয়ারিতে হত্যা করা হয়েছিল লেখক অভিজিত্ রায়কে। তাদের হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার মুক্তবুদ্ধির মানুষ। তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউ। অথচ বইমেলার কোথাও তাদের অস্তিত্ব নেই। কোনো  প্রকাশক বা মেলা কর্তৃপক্ষ তাদের স্মরণ করছেন না।

‘দীপনের কথা কেউ বলে না। মেলার কোথাও দীপন নেই’ বলছিলেন দীপনের স্ত্রী ডা. রাজিয়া রহমান। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতির হাল ধরেছেন তিনি । বললেন, প্রত্যাশা ছিল মেলায় তাদের আত্মদানের কথা উচ্চারিত হবে।

দীপনের বিশাল এক ছবি জাগৃতির স্টলজুড়ে। এতো জীবন্ত সেই ছবি যে মনে হচ্ছে না এই মানুষটি নেই। জাগৃতির প্রকাশক ফয়সাল আরেদিন দীপনের শোক প্রিয়জনের হূদয়জুড়ে। তার বন্ধু প্রকাশকরা যেমন শোক প্রকাশ করছেন তেমনি যারাই জাগৃতির স্টলে বই কিনতে আসছেন তারাই থমকে যাচ্ছেন। দীপনকে ঘিরে তরুণ  প্রকাশক ও লেখকদের যে আড্ডা জমে উঠতো তা অনুপস্থিত। স্বজন, বন্ধুদের কাছে তার মৃত্যু মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তাদের হূদয়ে বেঁচে আছেন তিনি।

২০১৫ সালে মেলার ২৬তম দিনে মুক্তচিন্তার লেখক অভিজিত্ রায়কে হত্যা এবং একই বছর ৩১ অক্টোবর জাগৃতির ফয়সাল আরেফিন দীপনকে হত্যা এবং শুদ্ধস্বরের আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলকে জখম করে মৌলবাদী গোষ্ঠী।

এ প্রসঙ্গে অবসর প্রকাশনীর প্রকাশক আলমগীর রহমান বলেন, তাদের আমরা স্মরণ করি সব সময়। আমাদের হূদয়ে তারা জীবন্ত। দীপনকে স্মরণ করে তার মৃত্যু দিবসে আলোচনার আয়োজন করা হয়।

কবি মাকিদ হায়দার বললেন, আমরা বিস্মৃতিপ্রবণ জাতি। একজন মানুষ হারিয়ে গেলে ভুলতে সময় নেই না। অভিজিত্ ও ফয়সাল   আরেফিন দীপনের জন্য একটা শোক বই থাকতে পারতো মেলা প্রাঙ্গণে। সবাই নিজের মনের অনুভূতির কথা বলতেন। সম্মান জানানো যেত এভাবে। বাংলা একাডেমিতো এই উদ্যোগটা নিতেই পারে।

হানিফ সংকেতের দুটি বই মেলায়

এবারের অমর একুশের বইমেলায় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও লেখক হানিফ সংকেত এর দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। একটির নাম-‘সত্ খোঁজার পথ খোঁজা’ ও অন্যটি ‘বিস্ময়ের বিশ্ব পথে’। হানিফ সংকেত বলেন, ‘সত্ খোঁজার পথ খোঁজা’ বইটিতে চারদিকে দৃশ্যমান অদ্ভুত সব অসঙ্গতি আমাদের অভিজ্ঞতাকে কখনও হাস্যরসে, কখনও বা তিক্ততায় ভরিয়ে তোলে। সেইসব বিষয়কে উপজীব্য করেই লিখতে চেষ্টা করেছি ‘সত্ খোঁজার পথ খোঁজা’।

আর ‘বিস্ময়ের বিশ্ব পথে’ বইটিতে পেশাগত কারণে, আবার কখনও বা বেড়ানোর উদ্দেশ্যে দেশে এবং দেশের বাইরে নানা জায়গায় যাবার সুযোগ হয়েছে আমার। পরিচিত হয়েছি সেসব দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সভ্যতা, সংস্কৃতির সঙ্গে। সেসব কথাই রয়েছে বইটিতে। বই দুটি প্রকাশ করেছে অনন্যা প্রকাশনী।

কবরীর ‘স্মৃতিটুকু থাক’র প্রকাশনা উত্সব

শনিবার মেলার মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে চিত্রনায়িকা কবরীর আত্মজৈবনিকমূলক গ্রন্থ ‘স্মৃতিটুকু থাক’ এর প্রকাশনা উত্সব হয়। সেখানে কবরী নিজেই জানালেন, এ বইটিতে তার জীবনের খণ্ডিত অংশ তুলে ধরেছেন; আরো লেখার ইচ্ছা আছে। বইটি প্রকাশ করেছে বিডিনিউজ পাবলিশিং লিমিটেড (বিপিএল)।

বইটির প্রকাশনা উত্সবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলাম, চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান, বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী প্রমুখ।

মোড়ক উন্মোচন শেষে কবরী বলেন, আজকে অনেক মানুষ সামনে দাঁড়িয়ে, সারাজীবন এমনই ভালোবাসা পেয়েছি দর্শকদের কাছ থেকে। ‘পাশের বাড়ি মেয়ে’ পরিচয়ে আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতেও থাকবো। আমি শুধু বলতে চাই, আপনারা বই কিনুন। কারণ, বই আপনাকে নিয়ে যাবে সুন্দরতম জায়গায়, সঙ্গী হবে, অনেক কিছু শেখাবে।’

পাঠে পাঠে আবু হাসান শাহরিয়ার

গতকাল কবি আবু হাসান শাহরিয়ারের কবিতা পাঠের আসর বসেছিল বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামীম। মুখ্য পাঠ উন্মোচক ছিলেন শিল্পী ও কবি ধ্রুব এষ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী ও ইফতেখার রসুল জর্জ।

নতুন বই

বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শনিবার মেলায় ২৫তম দিনে নতুন বই এসেছে ১৬৩টি এবং ৪১টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। এগুলো মধ্যে জাতীয় সাহিত্য প্রকাশ থেকে প্রকাশ হয়েছে রাশিদা আখতার খানমের ‘মনোদর্শন’, চৈতন্য থেকে এসেছে মামুন মিজানুর রহমানের গল্পগ্রন্থ ‘হেসে হেসে ডুবেছিল চাঁদ’, একই প্রকাশনা থেকে বিনয় দত্তের গল্পগ্রন্থ ‘চিলতে মেঘ ও কুহুকেকার গল্প’, লাবণী প্রকাশনী থেকে চন্দন রহমানের ‘খোঁচা’, অনুপম প্রকাশনী এনেছে সুভাষ সিংহ রায়ের ‘বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনা’, অন্যপ্রকাশ এনেছে সেলিনা হোসেনের ‘মুক্তিযুদ্ধের বাছাই গল্প’, সূচিপত্র এনেছে অধ্যাপক আবু সা্য়ীদের ‘কোট মার্শাল, আমি মৃত্যুকে পরোয়া করি না’, মূর্ধন্য এনেছে  মঞ্জুরে মওলার ‘পঁচিশ বছরের প্রেমের কবিতা’, অনিন্দ্য প্রকাশনী এনেছে ফাতেমা তুজ জোহরার ‘গীত ও সুরের ভিন্ন উর্মিমালায় নজরুল সংগীত’, সৃষ্টি প্রকাশনী এনেছে আহসান হাবীবের ‘কাছে দূরে’।

মেলামঞ্চে আয়োজন

সকালে অমর একুশে উদ্যাপন উপলক্ষে ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, সংগীত এবং সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের মাঝে পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

বিকেলে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশের শিশুসাহিত্য’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রফিকুর রশিদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম এবং আসলাম সানী। সভাপতিত্ব করেন জাকির তালুকদার।

সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল মুজতবা আহমেদ মুরশেদের পরিচালনায় ‘স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র’ এবং হাসান আব্দুল্লাহর পরিচালনায় ঘাসফুল শিশুকিশোর সংগঠনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এ ছাড়া সংগীত পরিবেশন করেন কমলিকা চক্রবর্তী, আরিফ রহমান, শ্যামল কুমার পাল, সালমা চৌধুরী, রাজিয়া সুলতানা, ডা. রেজাউর রহমান, আবিদা রহমান সেতু এবং মনিরা ইসলাম।

আজকের আয়োজন

আজ রবিবার মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায়। চলবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। বিকেলে গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘আত্মজীবনীমূলক সাহিত্য’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান।

ইত্তেফাক/নূহু