নবাবগঞ্জে উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে ক্লিনিক। আর সেই ক্লিনিকের বর্জ্য প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে ইছামতি নদীতে। এতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, ময়লা হচ্ছে নদীর পানি। ক্লিনিকের বর্জ্য ও ময়লার স্তূপ জমে আছে নদীর বুকে, পচা গন্ধে কাছেও যাওয়া যায় না। নবাবগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মার সঙ্গে সংযুক্ত ইছামতি নদীর করুণ অবস্থা। আশির দশকের দিকে ঢাকায় যাতায়াতের ইছামতি নদী পথে লঞ্চ ছিলো এলাকাবাসীর একমাত্র যান। আর যাবতীয় মালামাল আনা-নেয়ার ব্যবস্থা ছিলো নৌকায়। সে সময় নদীতে চলাচল করে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতো মুন্নি, নাহার, বাহার, জনতা নামে কয়েকটি বিলাসবহুল লঞ্চ। উপজেলার বান্দুরা টার্মিনাল থেকে সদরঘাট পৌঁছাতে প্রায় সময় লাগতো ছয়ঘন্টা। স্থলপথে এখন দুই ঘন্টায় ঢাকা পৌঁছাতে পারলেও নদীপথের সুবিধা ভোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।
নদী ভাঙন ও বন্যার কবল থেকে নবাবগঞ্জবাসীকে বাঁচাতে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে পদ্মার মুখে কাশিয়াখালি এলাকায় বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় এবং ক্ষমতায় থাকাকালীনই বাস্তবায়ন করা হয় বাঁধ। ফলে নদীপথ বন্ধ হয়ে যায়। নদীপথ বন্ধ হওয়ায় অবহেলিত ইছামতি এখন ময়লা আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় অসচেতন ব্যবসায়ীরা কাঁচা বাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলার স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছেন নদী। স্বার্থান্বেষী ক্লিনিক মালিকরা অপারেশন রোগীর বর্জ্য ফেলার স্থানও করে নিয়েছেন নদীর পানিতে। ইছামতি নদীতে দৃষ্টি রাখলেই দেখা যাবে পানিতে ভাসছে ময়লা আবর্জনা। নদী চালু থাকা অবস্থায় আশেপাশের খালগুলো দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে বিল ও ফসলি জমি পেতো পলিমাটির দেখা। তাতে ফসলি জমির উত্পাদন বৃদ্ধিসহ পদ্মার মাছ প্রবেশ ছিলো চলমান। সে সময় জেলেরা মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতো।
নদী বাঁচাতে ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে ইছামতিকে বাঁচাও নামে একটি সংগঠন আন্দোলন, সংগ্রাম ও মানববন্ধন করেছে একাধিকবার। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাকিল আহমেদ বলেন, ইছামতিতে আবর্জনা বা ক্লিনিকের বর্জ্য না ফেলার জন্য ক্লিনিক মালিকদের বলা হয়েছে। এরপরেও যদি ফেলে তাহলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু