বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি

 
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি এখন বিলুপ্তি প্রায়। প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্য এই গরুর গাড়ি। দিনে দিনে নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন ঘটেছে। 
 
ইঞ্জিনচালিত গাড়ির পাশে টিকে থাকাটা দায় হয়ে পড়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ির। এক সময় গরুর গাড়ি ছাড়া কোন গ্রামেই বিয়ে হতো না। হতো না কৃষকের ঘরে ধান তোলা, জমিতে সার দেয়া এমনকি বাজারে ধান বিক্রি পর্যন্ত করা যেত না গরু-মহিষের গাড়ি ছাড়া।
 
বর্তমান আধুনিক যন্ত্রের গাড়ি হওয়ায় গরু বা মহিষের গাড়ির আর প্রয়োজন হচ্ছে না। গরু-মহিষের গাড়িগুলো যে চাকার উপর ভর করে মেঠো পথ চলত, সেই চাকা ছিল কাঠের তৈরি। এ গাড়ির সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে কাঠের সেই চাকা শিল্প। চাকার প্রয়োজনে গড়ে উঠেছিল চাকা তৈরির কারখানা।
 
নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলার আড়ানগর বাজার, ফার্শিপাড়া বাজার, মঙ্গলবাড়ী বাজার, হরিতকিডাঙ্গা বাজারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে গড়ে উঠেছিল এসব কাঠের চাকা তৈরির কারখানা। এতে প্রায় শতাধিক মানুষ এ পেশায় নিয়োজিত ছিল।
 
ধামইরহাট উপজেলার উত্তর চকরহমত গ্রামের আলাল হোসেন ও আফজাল হোসেন বলেন, ২০-২৫ বছর পূর্বে প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কম হলেও একটি করে গরুর গাড়ি ছিল। অনেক বিত্তবান পরিবারে ২টি থেকে ৪টি পর্যন্তও গরু-মহিষের গাড়ি ছিল। সে সময়ে অধিকাংশ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের আয়ের উৎস ছিল গরু-মহিষের গাড়ি। এই গাড়ির উপর নির্ভর করে চলত ঐসব পরিবারের সংসার।
 
মালামাল আনা-নেওয়া, গামীণ বধূদের যাওয়া-আসা চলত এসব গাড়িতে। কিন্তু এখন বাস, মাইক্রোবাস, ভটভটি, নছিমন, করিমনসহ ইঞ্জিনচালিত নানা গাড়িতেই এসব কাজ চলছে। যার কারণে গরুর গাড়ি হারিয়ে যাচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর