রংপুরের চাঞ্চল্যকর জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি (৬৬) হত্যা মামলার রায় মঙ্গলবার। মামলার এই ঘটনা নিয়ে মাসের পর মাস অন্ধাকারে থাকে পুলিশ। তার পর রহস্য উদঘাটন, আসামিদের চিহ্নতকরণসহ নানা প্রক্রিয়া শেষে আদালতে চার্জশিট দিতে লেগে যায় নয় মাস। এরপর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রবিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার রায় ঘোষণার জন্য এই দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- ইসহাক আলী, লিটন মিয়া, আবু সাঈদ, সাখাওয়াত হোসেন, আহসান উল্লাহ, সাদ্দাম হোসেন, নজরুল ইসলাম। এদের মধ্যে সাদ্দাম হোসেন ও নজুরুল ইসলাম পুলিশের সাথে ক্রস ফায়ারে নিহত হয়েছেন। আহসান উল্লাহ নামে অপর জঙ্গি পলাতক রয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জানুয়ারি বুধবার বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্রের আদালতে হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের শুরু হয়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। মামলাটিতে ৫৭ সাক্ষীর মধ্যে ৫৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। দুই সাক্ষী উপস্থিত না হওয়ায় আদালত সাক্ষ্য গ্রহণ শেষের আদেশ দেয়। আদালত ৬০ কার্যদিবসে মামলার আসামি সনাক্তকরণ, সাফাই স্বাক্ষ্যগ্রহণ এবং যুক্তিতর্ক উপস্থাপনসহ মামলার সকল আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা জানান, এ মামলার ৮ আসামির মধ্যে আহসান উল্লাহ্ পলাতক রয়েছেন এবং সাদ্দাম হোসেন ও নজরুল ইসলাম পুলিশের সঙ্গে ক্রস ফায়ারে নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা হত্যা মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে। তাই আমরা আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা করছি।
আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন ও অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন জানান, আসামিরা বেকসুর খালাস পাবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রসঙ্গত, জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর সকালে কাউনিয়া উপজেলার নাছনিয়া বিল আলুটারী এলাকায় ৩ জন জঙ্গি তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছিল।
ইত্তেফাক/মাহমুদুল