তাম্রলিপি প্রকাশনী খুব অল্প সময়েই প্রকাশনা জগতে নিজের অবস্থান করে নিয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের প্রকাশক এ কে এম তারিকুল ইসলাম রনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই এই ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল। এবার সেই অশান্ত পরিবেশ ছিল না। তাই প্রকাশক-পাঠক সবার জন্যই মেলার পরিবেশ অনুকূল। তাছাড়া এত বিশাল পরিসরে শান্ত-স্নিগ্ধ বইমেলায় এসে পাঠকরাও সুন্দর সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন বলে মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে মেলা খুব ভালো হয়েছে। মেলার পরিবেশ সুন্দর রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও যথেষ্ট তত্পর ছিল।
তিনি বলেন, মেলায় আড্ডার পরিবেশটা নেই। পর্যটনের একটামাত্র রেস্টুরেন্টে এত বিশাল মেলার চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, এত বড় মেলায় পাঠকদের বিশ্রামের কোনো স্থান নেই। এবারে দায়সারা গোছের কিছু বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে কিন্তু তাও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এবারের মেলা যে কোনোবারের তুলনায় গোছানো হয়েছে। তবে বাংলা একাডেমি আগামী বছরগুলোতে এসব ত্রুটি দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করেন। আমরা আশা করি, আগামী বছরে ভুল বই, পাইরেটেডে বই নিয়ে মেলায় অংশ নেয়া, মানহীন শিশুতোষ বই নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করা প্রকাশকদের ব্যাপারে বাংলা একাডেমি কঠোর হবে। বইমেলায় প্রফেশনাল প্রকাশকরা ছাড়া মৌসুমি প্রকাশকদের অংশগ্রহণ বন্ধ করতে হবে। এই মৌসুমি প্রকাশকরা প্রকৃত প্রকাশকদের ক্ষতি করছেন। তাছাড়া মৌসুমি প্রকাশকদের ভুলে ভরা বই মেলাকে কলুষিত করছে।
তিনি বলেন, স্টল বিন্যাস ও মেলার ডায়াগ্রাম তৈরির সময় প্রকাশকদের সম্পৃক্ত করা করা হলে ত্রুটিগুলো কম হবে বলে আমরা মনে করি । এবারের মেলার বিন্যাসে এমন কিছু পকেট সৃষ্টি হয়েছে যেখানে পাঠকরা সহজে প্রবেশ করতে পারছেন না। ফলে সেসব স্থানের স্টলগুলো বই বিক্রির ক্ষেত্রে ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রত্যেক প্রকাশক সমান পরিমাণ টাকা দিয়ে স্টল বরাদ্দ নেন। শুধু অবস্থানগত কারণে কেউ ভালো বিক্রি করেন কেউ খারাপ। সব প্রকাশক যাতে সমান সুযোগ লাভ করেন সে বিষয়টি যতটা পারা যায় নিশ্চিত করতে হবে।
ইত্তেফাক/নূহু