বয়সের ভারে বহুদিন আগেই তার হাতে উঠেছে লাঠি। সোজা হয়ে দাঁড়ানো তো দূরের কথা। অসুস্থতার কারণে শরীর সারাক্ষণ কাঁপতে থাকায় ঠিকমত নিজের মুখে ভাত তুলে খেতেও তার খুব কষ্ট হয়। বাত ব্যথায় জর্জরিত কোমর ও হাঁটু। অনেক আগেই করা হয়েছে দুই চোখের ছানি অপারেশন। কানের কাছে মুখ নিয়ে জোড়ে না বললে ঠিকমত কোনো কথা শুনতে ও বুঝতে তার কষ্ট হয়। তবুও শুধু নিজের দুমুঠো ভাতের জন্য ৯২ বছর বয়সী রাবেয়া বেওয়া সকাল-সন্ধা ছুটে চলেছেন পাড়ার এ বাড়ি থেকে ও বাড়ি। সারাদিন ভিক্ষা করে রাতের সামান্য খাবারটুকোও তার নিজেরই রান্না করে খেতে হয়। উপজেলা সদরের গ্রাম তাড়াশ দক্ষিণ পাড়ায় ওছমানের বাড়ি গিয়ে রাবেয়ার মানবেতর জীবন-যাপনের এসব চিত্রই প্রতীয়মান হয়।
জানা গেছে, ভিটে মাটিহীন রাবেয়ার দিনমজুর স্বামী আছের আলী প্রায় ৩০ বছর আগেই মারা গেছেন। তখন থেকেই নিঃসন্তান রাবেয়া তার ভাই চা বিক্রেতা ওছমানের কাছে রয়ে গেছেন। এ বাড়ির এক কোণায় তাকে একটি ছোট টুপরি ঘরের মধ্যে থাকতে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘড়ের চারপাশের বাঁশের তালাই আর খরের বেড়া ভেঙে যাওয়ায় পলেথিন ও কাগজের পোস্টার দিয়ে জোড়াতালি মেরে রাখা হয়েছে। আশপাশের সব ঘরে বৈদুতিক বাতি জ্বললেও রাবেয়ার ঘরে জ্বলে কেরোসিনের কুপি বাতি।
এ সময় রাবেয়া আরো জানান, তার ঘরের চালের পাঁচটি টিন অনেক দিনের পুরানো হওয়ায় একেবারে ঝাঝড়া হয়ে গেছে। কিছুদিন পর ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম। মেরামত করা না হলে সবসময় এ ঘরটি দিয়ে পানি পড়বে। তাইতো ৯০ পেরিয়ে এসে সুষ্ঠুভাবে বেঁচে থাকতে বয়স্কভাতা কার্ড পেতে তিনি এখনো আশাবাদী।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘রাবেয়া বেওয়ার বিষয়ে আমি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। শীঘ্রই উনার জন্য বয়স্কভাতা কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে।’
ইত্তেফাক/সালেহ্