সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লা জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা, সিলেট, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রামসহ অন্তত ২০ রুটের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রী সাধারণ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
বুধবারও কুমিল্লা জেলার সহস্রাধিক বাস শ্রমিক ট্রার্মিনাল অবরোধ করে পরিবহন ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে। কুমিল্লা নগরীর জাঙ্গালিয়া, শাসনগাছা ও চকবাজার টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। আঞ্চলিক সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচলের সময় বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকদের একটি অংশ মহাসড়কের আলেখারচর এলাকায় বাধা প্রদানসহ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে গাড়ি ভাঙচুর করে।
জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকা-মানিকগঞ্জ মহাসড়কে জোকা এলাকায় চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত চালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডদেশ দেন। এই রায় প্রত্যাহার দাবি করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট চলছে।
কুমিল্লা জেলা বাস পরিবহনের শ্রমিক আবদুর রশিদ ও মনির হোসেন বলেন, ‘আমাদের নিরীহ শ্রমিকের উপরে যে সাজা দেয়া হয়েছে তা প্রত্যাহার করা না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এদিকে ঢাকাগামী যাত্রী শাহ আলম, জাহাঙ্গীর, নজরুল ও রাজনসহ অন্যান্য যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, পূর্ব ঘোষণা ছাড়া বাস পরিবহন শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দেয়ায় যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।
কুমিল্লা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদুর রহমান বলেন, ‘বাস শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মবিরতি পালন করছে। এখানে আমাদের করার কিছুই নেই।’
ময়নামতি হাইওয়ে থানার এসআই মনির হোসেন জানান, মহাসড়কে কিছু ট্রাক-লরি ও মালবাহী পরিবহন চলাচল করলেও দূরপাল্লার সকল যানবাহন বন্ধ রয়েছে। তবে আঞ্চলিক সড়কগুলোতে মাঝে মধ্যে গাড়ি চলাচল করছে।
ইত্তেফাক/সালেহ্