জাপান গার্ডেন সিটি'র বিদ্যুৎ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট

 
সারাদেশে যখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে তখন রাজধানীর প্রথম স্যাটেলাইট টাউন জাপান গার্ডেন সিটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমানোর ব্যবস্থা চূড়ান্ত করেছে ডেভেলপার কোম্পানি জাপান গার্ডেন সিটি লি. কর্তৃপক্ষ।
 
বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। জাপান গার্ডেন সিটি'র ফ্ল্যাট মালিকবৃন্দ প্রকল্পের শুরু থেকে চলমান বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন ৩৩/১১ কেভি থেকে ১১ কেভিতে এবং লোড ৯.৪ মেগাওয়াট থেকে ৪.০০ মেগাওয়াটে কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেছে। হাইকোর্ট গত ৮ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে রুল জারি করে এবং তিন মাসের স্থগিতাদেশ প্রদান করেছেন।
 
বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. এজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারী করেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডিপিডিসি'র এমডি, নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন), নির্বাহী প্রকৌশলী, রাজউক ও জাপান গার্ডেন সিটি লি. এর এমডিকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে রুলের  জবাব দিতে বলা হয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর আদাবরে জাপান গার্ডেন সিটি ১৬ তলার ২৬ টি বিল্ডিং নিয়ে একটি স্যাটেলাইট টাউন। এ প্রকল্পে টোকিও স্কয়ার নামিয় ১০ তলার একটি সম্পূর্ণ এসি মার্কেট ও ৬ তলার একটি মসজিদও রয়েছে।
 
জাপানিদের পরিকল্পনায় বাংলাদেশের হাইরাইজ বিল্ডিং এর প্রথম স্যাটেলাইট টাউন এটি। ফলে প্রকল্পটি গড়ে ওঠার সময় রাজউক ও বিদ্যুৎ উপদেষ্টাদের পরামর্শ অনুযায়ী  লোড ২৪.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য আবেদন করলে তৎকালীন ডেসা কর্তৃপক্ষ ৯.৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ ও ৩৩/১১ কেভি বিশিষ্ট সাব-স্টেশন বসানোর সিদ্ধান্ত দেয়। প্রকল্পের প্রয়োজনেই সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন স্থাপন ও ৯.৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে জাপান গার্ডেন সিটির বাসিন্দাগণ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা গত ১০ বছর ধরে পেয়ে আসছিল। ফ্ল্যাট মালিকদের কোনরূপ অবহিত না করে ডেভেলপার কোম্পানি জাপান গার্ডেন সিটি লি. অত্যন্ত গোপনে গত ০৬/১১/২০১৬ তারিখে ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশন ১১ কেভিতে রূপান্তর ও লোড ৯.৪ থেকে কমিয়ে ৪.০০ মেগাওয়াট এর জন্য ডিপিডিসিতে আবেদন করে। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিপিডিসি মাত্র ১ দিনেই নীচ থেকে এমডি পর্যন্ত ফাইল চালাচালি করে বিষয়টির অনুমোদন দেয়।
 
এই অবস্থায় হাইরাইজ বিল্ডিং এর এই প্রকল্প নানা জটিলতায় আক্রান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে হাইরাইজ বিল্ডিং এর আবাসিক এলাকা হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এর বদলে সরবরাহ কমে গেলে লোডশেডিং ও অন্যান্য অসুবিধা সৃষ্টি হবে।  এ কারণে ১৬২৩ টি ফ্ল্যাটের প্রায় দশ হাজার বসবাসকারী ও ফ্ল্যাট মালিকগণের মধ্যে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
 
ইত্তেফাক/জামান