জেলার ইসলামপুর উপজেলার যমুনা দুর্গম চরগুলোর মানুষ চিকিত্সা সেবা ও শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। জানা গেছে, এর আগে উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিক, বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। আবার বিভিন্ন স্থানে জেগে উঠেছে দ্বীপচর। সেখানে লোকজন বসতি স্থাপন করে বসবাস শুরু করলেও চিকিত্সা কেন্দ্র কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। ফলে দ্বীপচরের মানুষগুলো চিকিত্সা সেবাসহ শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যে সময় তাদের বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সে সময় তারা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হয়ে শিশু শ্রমের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
বিশেষ করে দুর্গম দ্বীপচর বিশরশিতে ৩ শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করলেও ইসলামপুর ও সারিয়াকান্দি দুই উপজেলার মধ্যে সীমানা জটিলতার কারণে চিকিত্সা কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। এ জন্য সকল রোগের চিকিত্সা সেবায় কবিরাজি ঝাড়-ফুঁকই একমাত্র ভরসা। ঠিক তেমনি চর বিশরশিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠায় বেশির ভাগ শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, যমুনার দুর্গম চরের যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। চর বিশরশি গ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাবে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাসহ সব মৌলিক অধিকার থেকে শত শত শিশু বঞ্চিত হয়ে আসছে। এ বিষয়ে বিশরশি চরের মৌলানা ঈমান আলী জানান, এলাকার শিশুদের কায়দা, আমপারাসহ কোরআন শরীফ শিক্ষা দিয়ে থাকি। তিনি আরো বলেন, এলাকায় রোগীদের চিকিত্সার কোনো ব্যবস্থা নেই। জ্বর হলে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট কিনতে হয় প্রায় ১৫ কি.মি. দূর থেকে। তাই অসুস্থ রোগীদের ঝাড়-ফুঁক দেওয়া ছাড়া প্রাথমিক চিকিত্সার কোনো ব্যবস্থা নেই।
জানা যায়, গত ২০১৫ সালে সাপধরী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি পরিষদ ভবন, সাপধরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাপধরী উচ্চ বিদ্যালয় এবং ২০১৬ সালে সাপধরী মণ্ডলপাড়া বাজার ও চরচেঙ্গানিয়া বাজারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি, হাজার হাজার একর ফসলি জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলেও সাইনবোর্ড সর্বস্ব নাম রয়েছে। সেখানে সরকারি-বেসরকারি কর্মচারী কাগজপত্রে নিয়োগ আছে কিন্তু উপস্থিতি নেই।
এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক বলেন, সাপধরী ইউনিয়নের সিংহভাগ এলাকা বিগত দিনে যমুনার ভাঙনে বিলীন হয়ে আবার বিভিন্ন স্থানে চর জেগে উঠেছে। সে সব চরে শিক্ষা ও চিকিত্সা কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। দু-একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে থাকলেও অস্তিত্বহীন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো লেখাপড়া নেই। সেখানকার বেশির ভাগ শিক্ষক দিনের পর দিন বিভিন্ন অজুহাতে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকেন। এ কারণে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। শুধু তাই নয় চরের অধিকাংশ মানুষ উন্নত চিকিত্সা সেবা থেকেও বঞ্চিত। এছাড়া শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে শিশুরা শ্রমের দিকেও ঝুঁকে পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইত্তেফাক/নূহু