কুমার বিশ্বজিৎ। দেশের সঙ্গীতাঙ্গনে কিংবদন্তী এক কণ্ঠশিল্পী। গানের পাশাপাশি সঙ্গীতাঙ্গনের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকতে দেখা গেছে তাকে। সম্প্রতি তিনি স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ত আছেন, পাশাপাশি নতুন গান করছেন। এসব প্রসঙ্গ, গানের ডিজিটাল প্লাটফর্ম ও রেভিনিউ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে—
বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন—
কনসার্টের সময় নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছি। মার্চের ৯ তারিখে আমেরিকা যাচ্ছি স্টেজ পারফর্ম করতে। এছাড়া ফোক গান নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ কাজ করছিলাম, কিন্তু স্টেজ শো-এর কারণে সেগুলোর কাজে ঠিকমতো শেষ করতে পারিনি। তারপরও দু-তিনটি গান নিয়ে কাজ করেছি। সিঙ্গেল, না হয় অ্যালবাম আকারে হয়তো সেগুলো শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেবো।
এ প্রজন্মের কাছে ফোক গান কতটুকু জনপ্রিয় মনে করেন?
গানের যতই ধারা বদল হোক, আমাদের গান যতই আধুনিক হোক না কেন, ফোক গান কিন্তু মানুষ শোনা বন্ধ করেননি। ঈদে ঢাকা শহর খালি হয় গ্রামের টানে, নাড়ির টানে, ঠিক তেমনি ফোক গানগুলো মানুষ শেকড়ের টানে শোনেন। ফোক গান সবার অস্থিমজ্জায় মিশে গেছে। বর্তমান প্রজন্মের কাছে ফোক গান অবশ্যই জনপ্রিয়। সেজন্য ঘটা করে ফোক ফেস্টিভ্যাল করা হয়, তা না হলে ফোক ফেস্টিভ্যাল করা হতো না।
গানের বাজার ডিজিটাল হয়েছে, গানের সাথে মিউজিক ভিডিও বের হচ্ছে। এ বিষয়গুলো সঙ্গীতাঙ্গনের জন্য কতটুকু ইতিবাচক?
গানের ডিজিটাল বাজার প্রবীণ শিল্পীদের কী দিয়েছে! ডিজিটাল বাজারে তাদের গান কতটুকু প্রচার পাচ্ছে, তাদের কাজগুলো কি প্রচার পাচ্ছে? ডিজিটাল বাজারে নতুনদের পাশাপাশি পুরোনো শিল্পীদেরও প্রাধান্য দেওয়া উচিত। আশেপাশে তাকালেই দেখতে পাই সবাই কেমন যেন একটা নিজস্ব গণ্ডিতে আটকে গেছে। গানের জায়গা থেকে আমাদের গানকে সমৃদ্ধ করতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই গণ্ডির বাইরে আসতে হবে, সঙ্গীতকে উন্মুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে মিউজিক ভিডিও গানের একটা নতুন ধারা। সত্য কথা হলো, গান ভালো হলে মিউজিক ভিডিও লাগে না, শ্রোতারা গানকে এমনি ভালবাসবেন।
ভিউয়ার্স দিয়ে গানের মূল্যায়ন কতটা যুক্তিযুক্ত। আপনি এ বিষয়ে কি মনে করেন?
এখন ভিউয়ার্স নিয়ে একটা প্রতিযোগিতার জায়গা তৈরি হয়েছে। এই প্রতিযোগিতাটা ভালো গান তৈরির ক্ষেত্রে হলে আমাদের গানের জন্য ভালো হতো।
ডিজিটাল বাজারে গানের রেভিনিউ নিয়ে একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন অনেকদিন হলো। এ প্রসঙ্গে জানতে চাই—
ডিজিটাল বাজারে এখন যেটা দেখা যাচ্ছে সেটা হচ্ছে অর্থ উপার্জন, প্রচার-প্রচারণা। কিন্তু আমাদের গান নিয়ে শুধু ব্যবসায়িক চিন্তা করলে তো গানের উন্নতি হবে না, শুধু পকেট ভারী হবে। আমরা যে উদ্যোগ নিয়েছিলাম সেখান থেকে থার্ডপার্টি কন্টেন্ট প্রোভাইডার সিস্টেম বন্ধ করতে পেরেছি। আর রেভিনিউয়ের বিষয়টি হচ্ছে নিজস্ব চুক্তির বিষয়। কে, কার গানের সত্ত্ব কাকে দিলো, কাকে দিচ্ছে এমন বিষয়। এখন কেউ যদি এককালীন চুক্তি করে সে তো দ্বিতীয়বার রেভিনিউ পাবে না। আর এখনকার সময়ে রেভিনিউয়ের বিষয়টি এখনো স্বচ্ছ নয়। পুরোনো গানগুলো যা ব্যবসা করার করে নিয়েছে সেটা থেকে এখন আর নতুন করে ব্যবসা করার সুযোগ নেই। যদি সুযোগ থাকতো তাহলে পুরোনো শিল্পীদের আজীবন আর গান করা লাগতো না। পুরোনো গান দিয়েই তারা আজীবন বেঁচে থাকতেন। সত্যিকারের শিল্পী যারা তারা সবসময় আত্মপ্রচার-বিমুখ হয়। তাদের কাছে মূল লক্ষ্যই থাকে তাদের কাজগুলো যেন বেঁচে থাকে যুগের পর যুগ।
ইত্তেফাক/আনিসুর