আমের মুকুলে সুরভিত বাঘা

আম বাগান এলাকায় এখন মৌ মৌ গন্ধ। যে কারো প্রাণ জুড়িয়ে যাবে। কোন কোন গাছ থেকে মুকুল বের হচ্ছে, আবার কোন-কোন গাছে গুটি ধরা শুরু হয়েছে । ফলে বাগান পরিচর্যায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বাঘার বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও আমের ভালো ফলনের আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।   
 
রাস্তার দুই ধারে সারি সারি আম বাগান| আর সুস্বাদু-বাহারি জাতের আমের কথা উঠলেই চলে আসে  রাজশাহী অঞ্চলের নাম। এই জেলাকে আমের জন্য বিখ্যাত বলা হলেও মূলত আম প্রধান অঞ্চল হিসাবে খ্যাত জেলার চারঘাট-বাঘা ও পার্শ্ববর্তী চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা।  এ অঞ্চলের কৃষকরা জানান, বিগত যে কোন বছরের তুলনায় এবার আমের মুকুল ভাল হয়েছে। 
 
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আমের রাজধানী হিসাবে খ্যাত বাঘায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর আম বাগান রয়েছে। সেখানে রয়েছে  প্রায় দেড় শতাধিক জাতের আম। সব জাতের আম মিলিয়ে এবার বাঘায় দেড় লাখ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমকে ঘিরে প্রতি মৌসুমে বাঘা এলাকায় অন্তত ২৫টি ছোট-বড় আমের বাজার (হাট) বসে। এর মধ্যে বড় বাজার বসে বাঘা সদর, মনিগ্রাম, বিনোদপুর, বাউসা ও পাকুড়িয়া এলাকায়।
 
স্থানীয় লোকজন জানান, এবার যে হারে গাছে মুকুল এসেছে তাতে আমের বিক্রি এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এ অঞ্চলের আমের মধ্যে-ফজলি, খিরশাপাত, গোপাল ভোগ ও ল্যাংড়ার নাম শোনা যায় সবার মুখে-মুখে। এ ছাড়াও  বৌ-ভুলানী, রানীপসন্দ, জামাইখুসি, বৃন্দাবন, লকনা, বোম্বাই খিরসা, দাউদভোগ, সেনরি, আম্রপালি, আশ্বিনা, ক্ষুদি খিরসা, বৃন্দাবনী, ও কালীভোগসহ প্রায় দেড়শ জাতের আম রয়েছে। প্রতিবছর আম মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়।  
 
বাঘার আমোদপুর গ্রামের আম চাষী আলী আকবর জানান, গাছে মুকুল আসার পর থেকে আম পাড়া পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ বার কীটনাশক  প্রয়োগ করতে হয়। তাতে হেক্টরে ৩৮ থেকে ৪৫ হাজার টাকার বালাইনাশক লাগে। সে হিসেবে বাঘায় ৮ হাজার ৩৬৮ হেক্টর জমির আমগাছে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭২০ টাকার কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার হয়ে থাকে। 
 
বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে এর উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং পরিবহন, রপ্তানিসহ বাজারজাত করলে কৃষকরা ব্যাপক হারে লাভবান হবেন।
 
ইত্তেফাক/মুস্তাফিজ/উজ্জ্বল