পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বাবার

মিতু হত্যা মামলার বাদী হতে চেয়েছিলেন মিতুর বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন। তবে পরবর্তীতে এই মামলার বাদী হয়েছেন মিতুর স্বামী তত্কালীন পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। ঘটনার একদিন পর মামলা দায়ের হওয়া নিয়ে তখন অনেকের মনে প্রশ্নের উদ্রেক হলেও এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি মিতুর বাবা। তবে এবার সেই ঘটনাটিও তাকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। গত কিছুদিন ধরে মামলার বাদী বাবুল আক্তারকে সন্দেহের কাঁঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি। তবে কখনো পুলিশের ভূমিকা বা তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে তার কোনো সংশয় ছিল না। এবার সেই অবস্থান থেকেও সরে এসেছেন তিনি। এই মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এখন দ্বিধান্বিত হয়ে পড়েছেন তিনি। গত বুধবার ইত্তেফাকের সাথে আলাপচারিতায় সেই আভাসই দিয়েছেন মিতুর বাবা।

মোশাররফ হোসেন বলেছেন, মিতু হত্যায় তার স্বামী বাবুল আক্তারকে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আমরা সেটা তদন্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কিন্তু পুলিশের ভূমিকায় মনে হচ্ছে তারা বাবুল আক্তারকে রক্ষা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিএমপি’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা-উত্তর) মো. কামরুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, বাবুল আক্তার সাহেবের শ্বশুরের পরিবার থেকে যেসব অভিযোগ এসেছে, সে সম্পর্কে পুনরায় বাবুল আক্তারকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

মিতু হত্যায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের অবতারণা করে মোশাররফ হোসেন বলেন, শুরু থেকেই মিতু হত্যা মামলা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা     ছিল রহস্যজনক। আমি বাদী হতে চেয়েছিলাম। পরে শুনলাম পুলিশ বাদী হবে। কিন্তু বাদী হলো মিতুর স্বামী। এই মামলায় পুলিশ অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আমার দৃষ্টিতে পুলিশের প্রথম ভুল ছিল দুইজন আসামিকে (রাশেদ ও নবী) ক্রসফায়ারে দেয়া। আবার মুসা নামে একজনকে পলাতক বলা হচ্ছে। সে আদৌ পলাতক কিনা সেটা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এইসব কারণে পুলিশ একটু আইনের মারপ্যাঁচে আছে। বিষয়টা ওপেন করতে পারছে না। যে কারণে পুলিশ কোনো জবাব দেয় না। আমরা প্রশ্ন করলেও জবাব দেয় না। পুরো বিষয়টা পুলিশও জানে, বাবুল আক্তারও জানে। আসামিদের বাবুল আক্তারের সামনে আনা হয়েছিল। তখন কী কথা হয়েছে, সেটা পুলিশও জানে, বাবুলও জানে। মুসার স্ত্রী কেন পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেনি। আসামিরা বাবুল আক্তারকে ফেস করেছিল- এই একটা পয়েন্টেই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। তাহলে মিতু হত্যায় জড়িতদের যে সাজা হবে তার চেয়েও হয়তো বেশি সাজা হবে ক্রসফায়ার ও মুসাকে গুম করার জন্য দায়ী অন্যান্য পুলিশের। আসলে এই মামলায় পুলিশের ভূমিকা পরিষ্কার না।

বাবুল আক্তারকে কেন সন্দেহ করছেন জানতে চাইলে মিতুর বাবা বলেন, আনুষঙ্গিক ঘটনার কারণে সন্দেহের কথা বলেছি। সে মামলার বাদী। কিন্তু এই মামলা নিয়ে তার কোনো আগ্রহ নাই। সে মিডিয়ার সাথে কথা বলে না। সে বলতে পারে আমি শোকাহত, আমাকে একটু সময় দেন। তা না করে ফেসবুকে আজেবাজে স্ট্যাটাস দিচ্ছে। আমার এখান থেকে (শ্বশুর বাড়ি) চলে গেছে। আবার বিভিন্ন জায়গায় তার পরকীয়া প্রেমের কথা শুনছি। সব মিলিয়ে আমরা তাকে সন্দেহ করছি।

মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, মিতু হত্যার নেপথ্য নায়ক কে আমরা তা জানতে চাই। ময়নাতদন্তের সময় লাশের শরীর কাটাকাটি করে ডোমেরা। কিন্তু ডোমকে দিয়ে এই কাজ করায় ডাক্তাররা। ডোমদের এক বোতল মদ খাওয়ানো হয়। তারপর ডাক্তাররা যেখানে কাটতে বলে সেখানেই তারা লাশের শরীর কাটে। আমরা জানতে চাই মিতু হত্যায় কে ডাক্তারের ভূমিকা পালন করেছিল? তিনি বলেন, পুলিশ কয়েকজন আসামি গ্রেফতার করেছে। তারা মিতুকে কীভাবে খুন করা হয়েছে, সেটা আদালতকে বলেছে। কিন্তু তাদেরকে খুন করার আদেশ কে বা কারা দিয়েছে, আমরা সেটা জানতে চাই। নেপথ্য নায়ককে সামনে আনা হোক। এই মামলায় বাবুল আক্তারের ভূমিকা কী সেটা পুলিশ বলছে না। একটা লোকের স্ত্রী মারা গেছে। আর সরকার কোনো কারণ ছাড়াই ১৯ দিনের মাথায় ওই লোকের চাকরি খেয়ে ফেলবে। সবাই কিন্তু বোঝে। পুলিশ কাগজ-কলমে শো করছে না অথবা পুলিশের সেই সুযোগ নাই। এইটা পুলিশও বোঝে। বাবুল আক্তারও বোঝে। আমরাও বুঝি। কিন্তু আমরা কিছু বলতে পারছি না। কারণ আমাদের হাতে সেই সুযোগ নাই।

মিতু হত্যায় পুনরায় তিনি বাদী হয়ে পৃথক মামলা করবেন কী না জানতে চাইলে মোশাররফ হোসেন বলেন, আমার আর মামলা করার সুযোগ নাই। পুলিশের সুযোগ আছে। পুলিশ যদি মনে করে যে সে (বাবুল) আসলে জড়িত তাহলে এই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে অন্য একটা মামলায় বাবুল আক্তারকে আসামি করার সুযোগ আছে। এইটা হলো আইনের দৃষ্টিকোণ। আমি যদি বলি আমার ছয়জন সাক্ষী আছে, তাহলেও কোনো লাভ নেই। আমি মামলার বাদীও হতে পারবো না, তদন্ত কর্মকর্তাও হতে পারবো না। কিন্তু পুলিশ পারবে।

ইত্তেফাক/নূহু