জয়পুরহাটের কালাই পৌর শহরে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র তাওহীদ শামিম শুভকে (৮) অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে হত্যা করেছে অপহরণকারীরা। ২০ ঘণ্টা পর শনিবার ভোরে নিজ বাড়ির খুলিয়ানে খড়ের পালার কাছ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
খবর পেয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন ও র্যাব-৫ এর একটি ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কালাই থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। তাওহীদ শামিম শুভ কালাই মুন্সিপাড়া মহল্লার ঠিকাদার আব্দুল গফুর ওরফে তোতা মিয়ার ছেলে।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়,শুক্রবার প্রতিবেশী ছেলে-মেয়ের সঙ্গে কালাই কাকলী শিশু নিকেতনের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র শামিম শুভ খেলা করছিল। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজের দুই ঘণ্টা পর অপরিচিত একটি নাম্বর থেকে তার বাবা ঠিকাদার আব্দুল গফুর ওরফে তোতা মিয়ার মোবাইলে কল করে অপহরণকারীরা সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অবশেষে ছেলেকে ছেড়ে নেয়ার জন্য অপহরণকারীদের সঙ্গে তিন লাখ টাকা চুক্তি হয়। কিন্তু শুভর বাবা তাৎক্ষণিক বিষয়টি থানায় জানালে অপহরণকারীরা টের পেয়ে মোবাইল বন্ধ করে দেয়। শুক্রবার দিন শেষে রাতে অপরহরণকারীরা শিশু শুভকে হত্যার পর লাশ বাড়ির খুলিয়ানের খড়ের পালার কাছে ফেলে যায়। এলাকাবাসীর খবরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ ব্যাপারে কালাই থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে কালাই কাকলী শিশু নিকেতনের সকল শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা ক্লাশ বর্জন করেছে।
নিহতের বাবা বলেন, ‘নিখোঁজের পরপরই বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। কিন্তু পরিণাম যে এমন হবে তা কখনো ভাবিনি। এখন আমার একটাই দাবি ছেলে অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।’
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ইত্তেফাক/সালেহ্