পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বন্যপ্রাণী রক্ষায় সবার সচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অনেক বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে। একমাত্র সচেতনতাই এসব প্রাণী রক্ষা করতে পারে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর বনভবনে বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস ২০১৭ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন। এবছর বন্যপ্রাণী দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘বন্যপ্রাণী রক্ষায় তরুণদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলাই।’
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, শুধু বন্যপ্রাণী রক্ষায় নয়, দেশ পরিচালনা থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তরুণরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তাদের সামনে আমাদেরকে ভালো উদাহরণ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ছবি আঁকতে গিয়ে আমরা এমনভাবে আঁকি যেন বাংলাদেশে যা হচ্ছে পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে তা হচ্ছে না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে। কারণ, মূল্যবান জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ সবসময় আছে। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রের পরিবর্তনে তরুণদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, শুধু বন্যপ্রাণী নয়, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে হবে। স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হলে এর বিকল্প নেই।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবীর সব দেশই কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মনে রাখতে হবে আমাদের সমস্যা সবার এক। সবাইকে মিলেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। তবে সবার আগে নিজেদের চিন্তা করতে হবে আমরা নিজেদের অর্থে কতটুকু কাজ করতে পারি।
তিনি বলেন, বিশ্ব নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার কারণে অনেক বিষয় জটিল হয়ে যাচ্ছে। সে বিবেচনায় জলবায়ু পরিবর্তনখাতে কাজ করতে নিজস্ব তহবিলের যোগান বাড়াতে হবে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, সবক্ষেত্রে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে পারলে একদিন আমরা সুখীসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে পারব।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, এ কাজে সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। মানুষের সঙ্গে বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমিয়ে আনতেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বন সংরক্ষক সফিউল আলম চৌধুরী বলেন, সরকার বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী ধরা এবং পাচার বন্ধে নানা পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
আইইউসিএন -এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ বলেন, বন্যপ্রাণী রক্ষা করতে হলে তাদের আবাসস্থল রক্ষা করতে হবে। তিনি ইকো ট্যুরিজমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, যেসব এলাকায় বন্যপ্রাণী বিচরণ করে সেসব এলাকা বন বিভাগের আওতায় আনতে হবে। তাহলে কাজটি সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে আলাদা আলাদা বিষয়ের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সাজেদা চৌধুরী, অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান, অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম এবং উপ-প্রধান বন সংরক্ষক আব্দুল মাবুদ প্রমুখ।
ইত্তেফাক/নূহু