বগুড়ার শিবগঞ্জে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন

বগুড়ার শিবগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী একটি দীঘির আধিপত্য নিয়ে স্থানীয় এমপি’র শ্যালক ও ইউপি চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনীর ছুরিকাঘাতে ওমর ফারুক (২৫) নামের এক যুবক খুন হয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বিহার ইউনিয়নের সংসার দীঘি এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকার মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে।

নিহত যুবক ওমর ফারুক সংসার দীঘির পাড়ে অবস্থিত দুবেলা গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্র  জানায় , বগুড়া -২ আসনের সংসদ সদস্য জাপা নেতা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ্ এর শ্যালক ও উপজেলার রায়নগর ইউপি’র চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু  বিতর্কিত সংসার দীঘিটি বন্দোবস্থ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন।

নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হবার পর এলাকাবাসী ওই দীঘির কর্তৃত্ব নিজেদের অনুকুলে নিয়ে মাছ চাষ শুরু করে। কিন্তু রিজু  তাতে বাধা দেন। ফলে এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ দেখা দিলে বিষয়টি উচ্চ আদালতে মামলা পর্যন্ত গড়ায় । যা আদালতে এখনও বিচারধীন ।

এরই মধ্যে মামলা চলাকালিন সময়ে রবিবার বিকালে চেয়ারম্যান রিজু তার লোকজন নিয়ে এলাকার ওই বিতর্কিত দীঘির দখল নিতে যায় । এসময় বিহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান স্বেচ্ছা সেবকলীগ নেতা মহিদুল ইসলামও তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জনপ্রতিনিধির শ্যালক ও তার বাহিনীকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসে।
সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে রিজু ও মহিদুল  চেয়ারম্যনের সশস্ত্র লোকজন দীঘিটির আধিপত্য নিতে গেলে এলাকাবাসী বাধা দেয় ।

তারা এ সময় চেয়ারম্যনদের লোকজনকে চলে যেতে বলে এবং যেহেতু ওই দীঘির বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধিন রয়েছে সে হেতু আদালতের রায় নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দীঘির দখল তাদের দখলেই থাকবে বলে জানায় । এতে চেয়ারম্যানদের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ।

একপর্যায়ে  গ্রামবাসীর সাথে তাদের বাকবিতন্ডা চলতে চলতেই চেয়ারম্যানদের বাহিনীর লোকজন  ওমর ফারুক ও মেহেদুল নামের দুই যুবককে ছুরিকাঘাত করে।  
এঘটনায় সেখানে গ্রামবাসীদের মধ্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই চেয়ারম্যন এর বাহিনীর লোকজন সেখান থেকে পালিয়ে যায় ।
 
ঘটনার পরপরই মূমুর্ষ অবস্থায় ওমর ফারুককে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে রাত সাড়ে ৮টায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এদিকে ওমর ফারুক নিহত হবার ঘটনা এলাকায় পৌছলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে  ।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্র্তা (প্রশাসন-অপারেশনস) মুহা. শহীদ মাহমুদ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে বিহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জনপ্রতিনিধির শ্যালক ও তার বাহিনীকে সহায়তা করতে এগিয়ে এসেছিল। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে ।  নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য শজিমেক মর্গে রাখা হয়েছে ।

রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

ইত্তেফাক/নূহু