জঙ্গি বহনকারী প্রিজন ভ্যানে বোমা হামলা

হরকাতুল জিহাদের (হুজি) ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ১৯ জঙ্গি বহনকারী দুইটি প্রিজন ভ্যানে বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেয়ার চেস্টা পুলিশ ব্যর্থ করে দিয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ এক বোমা হামলাকারীকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে রাজধানীর অদূরে গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলেজ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় হাজিরা দিতে মুফতি হান্নানসহ ১৯ জনকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদেরেকে দুইটি প্রিজন ভ্যানে করে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে পাঠানোর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।   কলেজ গেটে সফিউদ্দিন একাডেমির সামনে বোমা হামলা চালানো হয়।

ঘটনার পরপর আশেপাশের জনতার সহায়তায় পুলিশ এক হামলাকারীকে একটি ব্যাগসহ আটক করে। তার নাম মোস্তফা কামাল (৩০)। ময়মনসিংহের তারাকান্দা থানার পাগলি গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। মোস্তফা কামাল জেএমবি’র সদস্য বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার ব্যাগ থেকে দুটি চাপাতি, একটি সাউন্ড গ্রেনেড ও সাতটি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়। আটক মোস্তফা কামালা জানায় যে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সে এই হামলা চালিয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা ও পুলিশসহ তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় মুফতি আব্দুল হান্নান, সাহেদুল আলম বিপুলসহ ৩ জনের মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করেন আদালত। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় হান্নান ও বিপুলও অভিযুক্ত। গতকাল ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে ১৯ জনকে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করে আদালত। এই শুনানির জন্য কারাবন্দী ১৯ জনকে আদালতে হাজির করা হয়। এরা হলেন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান, মাওলানা শেখ ফরিদ, হুজির সাবেক আমির মাওলানা আবদুস সালাম, কাশ্মীরি জঙ্গি আব্দুল মাজেদ বাট, জঙ্গি আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সী ওরফে আবুল কালাম ওরফে আবদুল মান্নান, মহিবুল­াহ মফিজুর রহমান ওরফে অভি, শরিফ শাহেদুল আলম বিপুল, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, শাহাদাত উল­াহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুলল­াহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ,  উজ্জ্বল ওরফে রতন,  আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক ও বরিশালের মাওলানা আবু বকর।  

এর আগে গত শুক্রবার সকালে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে ২৪ আসামিকে নিয়ে কাশিমপুর কারাগারে যাওয়ার সময় মগবাজার ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে প্রিজন ভ্যানটি উল্টে যায়। ঐ ঘটনাটি নাশকতামূলক কিনা তা তদন্ত করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, প্রিজনভ্যান দুটি টঙ্গি কলেজ গেট অতিক্রমকালে কলেজ গেটের পাশের নার্সারী থেকে ৩ যুবক প্রিজনভ্যান লক্ষ্য করে পর পর কয়েকটি বোমা ছুঁড়ে মারে। এদের মধ্যে দুইটি বোমা রাস্তায় প্রচন্ড শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এতে চারদিক আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তখন প্রিজন ভ্যান দুইটি প্রচন্ড বেগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করার চেস্টা করে। এসময় প্রিজন ভ্যানের পেছনে থাকা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান ঘটনাস্থলে থেমে যায়। সেখান থেকে ৭/৮ জন পুলিশ সদস্য নেমে তিন যুবককে ধাওয়া দেয়। এসময় স্থানীয় জনতা পুলিশের সঙ্গে যুবকদের ধাওয়া দিলে মোস্তফা নামে একজনকে একটি ব্যাগসহ আটক করে। অপর দুই যুবক ঘটনাস্থলের উত্তর দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত বোমার স্প্লিন্টার, অবিস্ফোরিত ৭ টি হাত বোমা ও ব্যবহূত একটি ব্যাগ উদ্ধার করেছে।

টঙ্গী মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার জানান, দুটি প্রিজনভ্যানের একটিতে ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ছিলেন। তাকে ছিনিয়ে নিতেই জঙ্গি গোষ্ঠী এই হামলা চালাতে পারে। আটক যুবককে প্রথমে স্থানীয় পৌর অডিটরিয়ামে শিল্প পুলিশ ক্যাম্পে হস্তান্তর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ আটক ঐ যুবককে থানায় নিয়ে আসে।

হাইসিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, প্রিজন ভ্যানে করে মুফতি হান্নানসহ ১৯ জনকে আদালতে পাঠানো হয়। সন্ধ্যার দিকে শুনেছি প্রিজন ভ্যানে বোমা হামলা হয়েছে। তবে সাড়ে ৭ টার দিকে আসামীদের কাশিপুর হাইসিটিউরিটি কারাগারে পৌঁছানো হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ ও র্যাবের একাধিক টিম অভিযানে নামে। র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে.কর্ণেল সারোয়ার বিন কাশেমবলেন, র্যাবের দুটি টিম ঘটনাস্থলকে কেন্দ্র করে চারদিকে অভিযানে নেমেছে। আমরা গুরুত্বের সহিত বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।

২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে আদালতে জঙ্গি সদস্যদের নেয়ার সময় প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে জেএমবির রাকিব, সালাউদ্দিন ও বোমারু মিজানকে ছিনিয়ে নেয়। পরে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে রাকিব  নিহত হয়। সালাউদ্দিন ও বোমারু মিজানকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।
ইত্তেফাক/নূহু