ই-ফাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সারাদেশে নাটোর জেলা শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে। এই নথি ব্যবহার করার ফলে জেলা প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ এবং সমন্বয় সুবিধার সুফল হিসেবে ফাইলের দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে। সময় ও খরচের সাশ্রয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ হাতের নাগালে পাচ্ছে সরকারি সেবা। আর এভাবেই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে পেপারলেস অফিস।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ই-ফাইল সিস্টেমে অন লাইনে ড্যাশ বোর্ডের মাধ্যমে যে কোন চিঠি ও ফাইলের অবস্থান পরিবীক্ষণ করা হয়। প্রতি ৩ ঘণ্টা পর পর ড্যাশ বোর্ড আপডেট করা হচ্ছে। এই ড্যাশ বোর্ডে যে কোন ডাক গ্রহণ থেকে শুরু করে নথিতে উপস্থাপন, এসব ডাকে সৃজিত নোট, পত্র জারিতে নিষ্পন্ন নোট, নোটে নিষ্পন্ন এবং জারিকৃত পত্রের সংখ্যা জানা যাচ্ছে। ড্যাশ বোর্ডে আজ, গতকাল এবং অদ্যাবধি - এই তিনটি কলামে ডাকের অবস্থান উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ৯ হাজার ৫২৫টি ডাক গ্রহণ করার পর ৭ হাজার ১২১টি ডাক নথিতে উপস্থাপন, ২ হাজার ৪৮৬ টি চিঠিতে স্ব-উদ্যোগে নোট প্রদান, ১ হাজার ৫৮২টি চিঠি নোটে নিষ্পন্ন, পত্র জারির মাধ্যমে নিষ্পন্ন নোট ১ হাজার ৫৪৬টি এবং জারিকৃত পত্রের সংখ্যা ১ হাজার ৯৬৯টি।
জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (আই.সি.টি) মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, এই কার্যালয়ের ২৪টি শাখার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ই-ফাইলিং নেটওয়ার্কে সংযুক্ত। এসব শাখায় ৭৫ জনকে ইতোপূর্বে ৩ দিনের ই-ফাইল প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে আরো ৭৫ জনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
মজাহিদুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ছাড়াও সিংড়া ও নাটোর সদর উপজেলা এবং জেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ইতোমধ্যে ই-ফাইল কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। দ্রুত গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ই-ফাইলিং এ সংযুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নফিসা বেগম বলেন, জেলা কার্যালয়ের সকল কার্যক্রম ই-ফাইলে চলছে। পর্যায়ক্রমে সকল উপজেলা অফিস ই-ফাইল কার্যক্রমের আওতায় আসবে বলে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়। চিঠি গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সকল কার্যক্রম ই-ফাইলের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছেন, সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদেকুর রহমান।
ইত্তেফাক/মুস্তাফিজ/আনিসুর