দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের কারাগার থেকে আদালতে নেওয়ার সময় পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এমনকি প্রিজনভ্যানটি কারাগার থেকে আদালত পর্যন্ত সড়ক পথেও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে সতর্ক করতে হবে। প্রিজনভ্যানের সামনে ও পিছনে পুলিশের পাহারা থাকবে। কারাগারে এসব দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের নিবিড়ভাবে মনিটরিং করতে হবে। জঙ্গিরা কারাগারে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টিও কড়াকড়িভাবে মনিটর করতে হবে।
২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ত্রিশালে প্রিজনভ্যানে গুলি করে জেএমবির তিন সদস্যকে ছিনিয়ে নেওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ ও কারা অধিদফতর জঙ্গি আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের নির্দেশনা জারি করে। গাজীপুরের টঙ্গিতে মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২১ জঙ্গিকে বহনকারী দুইটি প্রিজনভ্যানের সামনে ও পিছনে পুলিশের কোনো এস্কর্ট ছিল না। এ ধরনের দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের বিনা নিরাপত্তায় কারাগার থেকে আদালত ও পরবর্তীতে কারাগারে স্থানান্তরে কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কোনো ক্রুটি আছে কি না তা একটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গিদের কারাগারের বাইরে নেওয়ার তথ্য কারাগার থেকে বাইরের জঙ্গিদের কাছে চলে যাচ্ছে। মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২১ জঙ্গিকে আদালতে নেওয়া এবং ফেরত আনার বিষয়টি জঙ্গিরা আগে থেকেই মনিটর করছিল।
এ ব্যাপারে আইজি (প্রিজন্স) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। কারা অধিদফতরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তারা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। গাজীপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মিজানুর রহমান বলেন, মুফতি হান্নানসহ দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের আদালতে পাঠানোর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। প্রিজন ভ্যানের আগে-পিছে পুলিশের সিকিউরিটি ছিল। মুফতি হান্নানকে আদালতে পাঠানোর বিষয়ে পুলিশের বিশেষ শাখা, এআইজি (গোপনীয়), এআইজি (অপারেশন্স), র্যাবসহ যেসব শাখায় জানানোর দরকার তা জানিয়ে দেওয়া হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়েই ঐ সব জঙ্গিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত শুক্রবার সকালে মগবাজার ফ্লাইওভার থেকে নামার সময় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় ফ্লাইওভারের ওপর একটি প্রিজনভ্যান উল্টে যায়। ওই প্রিজনভ্যানে সাজাপ্রাপ্ত ১০ জঙ্গিসহ ২৪ কয়েদি ছিলেন, যাদেরকে নিরাপত্তার জন্য কেরানীগঞ্জ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কাশিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। প্রিজনভ্যানের সামনে ও পিছনে পুলিশের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। প্রিজনভ্যানটি উল্টে যাওয়ার পর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আসামিদের নিরাপদ হেফাজতে নিয়ে অপর একটি প্রিজনভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে ২০১২ সালে মুফতি হান্নানকে আদালতে নেওয়ার সময় মগবাজারে প্রিজনভ্যানটি যানজটে আটকে যায়। ঐ সময় প্রিজনভ্যানে আলো-বাতাস প্রবেশের ফাঁকা স্থান দিয়ে টুপি পরিহিত এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার সঙ্গে কথা বলেন।
গতকাল ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, টঙ্গীর কলেজ গেট বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন যাত্রী ছাউনির পাশে একটি নার্সারি। সফিউদ্দিন সরকার একাডেমির দেয়াল সংলগ্ন নার্সারির সামনে তিনজন অবস্থান নেয়। ওই স্থনটির সামনে কোনো সিসি ক্যামেরা না থাকায় হামলার জন্য উপযোগী বলে ধারণা করছে গোয়েন্দারা। ঘটনাস্থলের একটু সামনেই স্পিডব্রেকার। সেখানে কয়েকজন চা দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামলাকারী তিনজন স্পিডব্রেকারের সামনে তিনটি বাঁশ দিয়ে প্রথমে ব্যারিকেড দেয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল ট্রাফিক পুলিশের এসআই মজনু। ততক্ষণে মুফতি হান্নানসহ বহনকারী একটি ও আরো একটি প্রিজনভ্যান কলেজ গেট বাসস্ট্যান্ডে আটকে যায়। যানজট দেখে ব্যারিকেড দেওয়া যুবকদের পুলিশ ধাওয়া দিলে দক্ষিণ দিকে বিকট শব্দে দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় কয়েকজন মোস্তফাসহ ৩ জনকে ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে মোস্তফাকে একটি ব্যাগসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
কলেজ গেট এলাকার ব্যবসায়ী খোকন দেওয়ান জানান, বিকাল ৫টার দিকে হঠাত্ দেখি ২/৩ জন লোক তিনটি বাঁশ দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। শফিউদ্দিন রোড এলাকায় ডিউটিরত ট্রাফিক পুলিশ বাধা দিলে ২/৩ জন লোক দৌড়ে কলেজ গেটের পাশের নার্সারির দিকে চলে যায়। সেখান থেকে তারা পুলিশের একটি প্রিজনভ্যান লক্ষ্য করে পর পর তিনটি বোমা ছুড়ে মারে। এর মধ্যে দুটি বোমা রাস্তায় প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় প্রিজনভ্যানের সামনে পুলিশের কোনো গাড়ি তিনি দেখেননি।