বৈদ্যুতিক সার্কিট ব্রেকার না থাকায় অগ্নিদুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা

 
রাজধানীতে ভয়াবহ আগুন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে বাস করছেন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। ভবনগুলোতে তামার তারের ফিউজ বা আর্থিং রড ঠিকভাবে কাজ না করায় অনেক ভবনের দেয়াল বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ছে। বৃষ্টিপাত হলে বিদ্যুৎসংযোগ প্রাপ্ত বিভিন্ন আসবাব পণ্যও  বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ছে। সার্কিট ব্রেকার না থাকায় বড় ধরনের অগ্নিদুর্ঘটনার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
 
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় অব্যবস্থাপনা, অপচয় ও দুর্নীতি রোধে সারাদেশে প্রি-পেইড মিটার বসানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সিরাজগঞ্জে কয়েকটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় এক লাখ ১২ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৬ হাজার প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
 
বিদ্যুত্ বিতরণ সংস্থাগুলোর একাধিক সূত্র এবং বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা জানান, প্রি-পেইড মিটারে স্বাচ্ছন্দ্য তৈরি হলেও এটি স্থাপনে সহায়ক কর্মসূচি কার্যকর না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিতরণ কোম্পানিগুলোর তত্ত্বাবধানে এ মিটারগুলো সরবরাহ ও স্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মিটারের সঙ্গে তামার তারের ফিউজ বা আর্থিং রড সংযুক্ত করা হচ্ছে না। ফলে পুরনো অনেক ভবনেই বিদ্যুতায়িত হয়ে অগ্নিদুর্ঘটনার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
 
আবার বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। হঠাত্ আগুন দুর্ঘটনা বা ওভারলোডজনিত দুর্ঘটনায় বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধে সকল সংযোগের সঙ্গে আধুনিক সার্কিট ব্রেকার স্থাপনের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু নতুন প্রি-পেইড মিটারগুলোর সঙ্গে সার্কিট ব্রেকার স্থাপন করা হচ্ছে না। এতে করে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ও সম্পদ ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটে।
 
সম্প্রতি রাজধানীর আজিমপুরের সরকারি কলোনির কয়েকটি ভবনে বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কলোনির ৮৪ নম্বর ভবনের একাধিক বাসিন্দা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ভবনটির দেয়ালের বিভিন্ন অংশ বিদ্যুতায়িত হয়ে রয়েছে। পানির কল এমনকি টিভিও এ অবস্থার শিকার। ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার ভীতি নিয়ে তারা দিনাতিপাত করছেন।
 
এ প্রসঙ্গে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নির্বাহী প্রকৌশলী (আজিমপুর অঞ্চল) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভবন বা ভবনের বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঘটনা মূলত তামার তারের ফিউজ বা আর্থিং রড না থাকার কারণে হয়েছে। আর অনেক পুরনো ভবনের ওয়্যারিং বর্তমানে খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ওই কারণেও বিভিন্ন জায়গায় লিক হয়ে এ বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় বিদ্যুত্ মিস্ত্রি বা সরকারের পূর্ত বিভাগের মাধ্যমে লিক মেরামত করতে হবে।
 
তিনি বলেন, ভবনে হঠাত্ আগুন দুর্ঘটনা বা ওভারলোডের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ভবনে আধুনিক সার্কিট ব্রেকার স্থাপন করতে হয়। সনাতনী বা প্রি-পেইড—দুই ধরনের মিটারের সঙ্গেই এটি বসানো যেতে পারে। তবে প্রি-পেইড মিটারগুলো বসানো হলেও সার্কিট ব্রেকার বসানো হচ্ছে না। গ্রাহকরা চাইলে নিজেরা এটি বসিয়ে নিতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে প্রি-পেইড মিটারের সঙ্গে সার্কিট ব্রেকার বসানো হবে।
 
দেশে বিভিন্ন সময় বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিদুর্ঘটনা ও এ ধরনের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও বিপুল সম্পদ নষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটছে। ভবনগুলোতে ওয়্যারিংয়ের অবস্থা শোচনীয়। বর্তমানে সরকার যে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তার সঙ্গে সার্কিট ব্রেকার বসালে এ ঝুঁকি অনেকখানি কমে যাবে। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।